মনিরুল হক, কোচবিহার: নদীর পাড়ে নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ ষাটোর্ধ্ব দাদুর বিরুদ্ধে। কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জের জামালদহে নাবালিকা ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শনিবার গভীর রাতে চরম উত্তেজনা ছড়ায়।
ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা টায়ার জ্বালিয়ে রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন। যার জেরে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশ। কিন্তু অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলার সময় উত্তেজনা আরও বাড়ে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের ছোড়া পাথরে আক্রান্ত হন মেখলিগঞ্জ থানার ওসি মহম্মদ শাহবাজ।
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতেই পুলিশ লাঠিচার্জ করে। মুহূর্তের মধ্যেই ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। কয়েকজনকে আটক করে মেখলিগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি রয়েছে। মাথাভাঙার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে এলাকায় টহল চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা নাবালিকা জামালদহ এলাকারই বাসিন্দা। অভিযোগ, শনিবার দুপুরে জামাকাপড় শুকোতে দেওয়ার সময় এক ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ তাকে নদী পাড়ের দিকে ডাকে। খড়ি দেখানোর কথা বলে সেখানে নিয়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানো হয়। খুনের হুমকি দিয়ে ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার সময় স্থানীয় এক মহিলা বিষয়টি লক্ষ্য করেন। তাঁরই তৎপরতায় নাবালিকাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় বলে দাবি এলাকাবাসীর।
নির্যাতিতা জানিয়েছে, ভয় ও আতঙ্কের কারণেই প্রথমে সে কাউকে কিছু জানাতে পারেনি। অভিযুক্তের হুমকির জেরে পরিবারও থানায় যাওয়ার সাহস পায়নি বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে শনিবার বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। সন্ধ্যায় নির্যাতিতা ও তার পরিবারকে জামালদহ পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে লিখিত অভিযোগ দায়ের হলে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে।
অভিযুক্ত ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করে মেখলিগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পরও ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার রাতেই টায়ার জ্বালিয়ে রাজ্য সড়ক অবরোধ করা হয়। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও লাঠিচার্জের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার জামালদহ সচেতন নাগরিক মঞ্চের তরফে ১২ ঘণ্টার বনধের ডাক দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব স্থানীয় বাসিন্দারা।
