মিল্টন সেন, হুগলি: জন্ম থেকেই তাঁরা চার ভাই। এলাকাবাসী এবং পরিবার আত্মীয় স্বজন সকলেই তাই জানতেন। ভাইরা নিজেরাও জানতেন তাঁরা চার ভাই। অথচ এসআইআর শুনানির নোটিশ পাওয়ার পর জানতে পারলেন তারা নাকি ছয় ভাই। হাস্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে সপ্তগ্রাম বিধানসভা এলাকায়। 

বাকি দুই ভাই কোথায়? শুনানির নোটিশ পেয়ে রীতিমতো অবাক সপ্তগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের ৮৭ নম্বর বুথের ভোটার দিলশাদ আনসারী। শনিবার দিলশাদ বাবু অভিযোগ করেছেন, কয়েক পুরুষ ধরে তাঁরা বাঁশবেড়িয়ার বাসিন্দা। ভোট দেন সপ্তগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। এসআইআর এর এনুমারেশন ফর্মে সব তথ্য দেওয়ার পরও তাদের শুনানিতে ডাকা হয়েছে। ডাকার কারন দেখানো হয়েছে, তাঁর বাবার নাকি ছয় ছেলে। অথচ তাঁরা চার ভাই। তার বাকি দুই ভাই, যাদের সম্পর্কে তিনি জানেন না। পরিবার জানে না। এলাকার বাসিন্দারাও জানেন না। অথচ নির্বাচন কমিশন জানে!

অবাক কাণ্ড। সপ্তগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের ৮৭ নম্বর বুথের অধিকাংশ ভোটারকেই শুনানিতে ডেকে পাঠানো হয়েছে। সেখানে একাধিক বয়স্ক, যুব এবং অসুস্থ কাউকেই শুনানি থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। সৌদি আরব থেকেও এসআইআর শুনানিতে হাজির হয়েছেন যুবক মহ: সাবির খান। তাঁর ক্ষোভ, যেভাবে সবাইকে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে যারা বিদেশে থাকে, তাঁদের সবার পক্ষে নিজে খরচায় সব সময় আসা সম্ভব না। তাঁদের সকলের বৈধ পাসপোর্ট-সহ সব তথ্য রয়েছে। তারপরও ক্রমাগত ডাকা হচ্ছে। এত দূর থেকে আসতে খরচের পাশাপাশি হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। আর এই যে এসআইআর হচ্ছে। তাঁরা শুনানিতে আসছেন, তার কোনও তথ্য কিন্তু তাঁদের দেওয়া হচ্ছে না। কুড়ি বছর পর আবার হয়তো তাঁর ছেলেকে পুনরায় নতুন করে নাগরিকত্ব প্রমান করতে হতে পারে।