আজকাল ওয়েবডেস্ক: নদিয়া জেলার ফুলিয়ার লড়াকু তৃণমূল নেত্রী ফেলানী বসাকের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা। ১৯৯৩ সালের আন্দোলনের অন্যতম সক্রিয় মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। সোমবার ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। গত দু’বছর শয্যাশায়ী অবস্থায় কাটানোর পর অবশেষে জীবনযুদ্ধের অবসান ঘটে। 

ফেলানী বসাকের নাম জড়িয়ে রয়েছে ১৯৯৩ সালে এক ঐতিহাসিক আন্দোলনের সঙ্গে, যার নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। বিশেষভাবে সক্ষম তাঁর কন্যা যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর বিচার চাইতে তিনি ছুটে গিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জির কাছে। ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মমতা।‌ সেই সময় রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন তুলে দিয়েছিল এই ঘটনা। 

পরবর্তীকালে সিঙ্গুর আন্দোলন-সহ একাধিক গণআন্দোলনেও ফেলানী বসাককে দেখা গিয়েছে সামনের সারিতে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে দলীয় কর্মসূচি ও মুখ্যমন্ত্রীর জনসভায় উপস্থিত থাকতেন নিয়মিত। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যেও একাধিকবার উঠে এসেছে ফুলিয়ার এই সংগ্রামীর নাম। 

দরিদ্র পরিবারে জন্ম হলেও রাজনৈতিক সংগ্রামে কখনও পিছিয়ে যাননি ফেলানী বসাক। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তাঁর মুখে শোনা গিয়েছে মমতা ব্যানার্জির নাম। এদিন ফেলানী বসাকের প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই নদিয়ার তৃণমূল নেতৃত্ব একে একে পৌঁছে যান পরিবারের পাশে। 

শান্তিপুর বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক ব্রজ কিশোর গোস্বামী-সহ স্থানীয় নেতৃত্ব মাল্যদান ও দলীয় পতাকা অর্পণ করে ফেলানী বসাককে শেষ শ্রদ্ধা জানান। দলের পক্ষ থেকে শেষকৃত্য ও ক্রিয়াকর্মের দায়িত্বও গ্রহণ করা হয়েছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ফেলানী বসাকের পরিবার আর্থিকভাবে সচ্ছল নয়। ছোট একটি কুঁড়েঘরেই বসবাস করতেন তিনি। পরিবারের একমাত্র পুত্র বয়সজনিত কারণে কর্মক্ষম নন। রয়েছেন দুই নাতনি। 

ঠাকুমার মৃত্যুসংবাদ পেয়ে তাঁরা বাড়িতে ছুটে আসেন। মৃতদেহের পাশে বসে তাঁরা স্মৃতিচারণায় জানান, কঠিন অসুস্থতার মধ্যেও তাঁদের ঠাকুমার মন পড়ে থাকত প্রিয় দল তৃণমূলের আন্দোলন আর প্রিয় নেত্রীর খোঁজখবরে। ফেলানী বসাকের মৃত্যুতে শুধু একটি পরিবারের নয়, নদিয়া জেলার রাজনৈতিক ইতিহাসেরও একটি অধ্যায়ের অবসান ঘটল, এটাই জানাচ্ছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। ১৯৯৩ সালের সেই লড়াকু তৃণমূল সৈনিককে হারিয়ে শোকস্তব্ধ গোটা জেলা।