মধ্য এশিয়াতে ইরান যুদ্ধ ঘিরে অশান্ত পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। তার প্রভাব পড়ছে ভারতের অর্থনীতিতেও। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র সরকারের জন্য বড় স্বস্তির খবর হতে পারে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সম্ভাব্য রেকর্ড উদ্বৃত্ত হস্তান্তর।
2
11
অর্থনীতিবিদদের অনুমান, চলতি সপ্তাহেই কেন্দ্রকে প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকা ডিভিডেন্ড হিসেবে দিতে পারে আরবিআই। ফলে সেখান থেকে সরকারের কাজ করতে অনেকটা সুবিধা হবে।
3
11
আগামী শুক্রবার আরবিআই-র বোর্ড বৈঠকে এই উদ্বৃত্ত অনুমোদন করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে এবিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
4
11
গত অর্থবর্ষে আরবিআই কেন্দ্রকে ২.৭ লক্ষ কোটি টাকা দিয়েছিল। এবার সেই অঙ্ক আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ব্লুমবার্গের সমীক্ষায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ অর্থনীতিবিদের অনুমান, এই অঙ্ক ৩ লক্ষ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। কেউ কেউ আবার ৩.৪ লক্ষ কোটি টাকার সম্ভাবনার কথাও বলেছেন।
5
11
এই বিপুল উদ্বৃত্ত মূলত আরবিআই-র বিদেশি মুদ্রা ভাণ্ডার, সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ এবং নোট ছাপানোর ফি থেকে আসা আয়ের ফল। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে আরবিআই-র ব্যালান্স শিট প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে বলেও অনুমান করা হচ্ছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থা সহজ করতে আরবিআই প্রায় ৯ লক্ষ কোটি টাকার বন্ড কিনেছে, যার প্রভাবও উদ্বৃত্ত বৃদ্ধিতে পড়েছে।
6
11
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে ভারতের আমদানি ব্যয় বাড়ছে। একই সঙ্গে চলতি হিসাবের ঘাটতি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্থ তুলে নেওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে।
7
11
এর জেরে ভারতীয় মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। চলতি বছরে ১০ বছরের সরকারি বন্ডের ফলন প্রায় ৫০ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৭.১০ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ডলারের তুলনায় টাকার মূল্যও প্রায় ৭ শতাংশ কমেছে।
8
11
বিশেষজ্ঞদের মতে, আরবিআই-র এই অতিরিক্ত ডিভিডেন্ড কেন্দ্রের আর্থিক ঘাটতি সামাল দিতে বড় ভূমিকা নিতে পারে। যদিও শুধুমাত্র এই অর্থে সব চাপ কাটবে না, কারণ তেলের পাশাপাশি সার আমদানির খরচও বাড়ছে। তবুও এই বিপুল অর্থ সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সুরক্ষা বলয় তৈরি করবে।
9
11
বন্ড বাজার ইতিমধ্যেই আরবিআই-র কাছ থেকে প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকার ডিভিডেন্ড পাওয়ার সম্ভাবনা ধরে এগোচ্ছে। প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি অর্থ না এলে বাজারে খুব বড় প্রভাব পড়বে না।
10
11
বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন থেকে লাভ এবং বিদেশি সম্পদে সুদের আয় বৃদ্ধির ফলেই আরবিআই-র উদ্বৃত্ত এতটা বেড়েছে। পাশাপাশি সরকারি সিকিউরিটি ও লিকুইডিটি ব্যবস্থা থেকেও স্থিতিশীল আয় হয়েছে।
11
11
অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, বিশ্বের অনিশ্চয়তার কারণে আরবিআই তার কনটিনজেন্সি বাফার ৭.৫ শতাংশ স্তরেই রাখতে পারে। তারপরও কেন্দ্রকে রেকর্ড পরিমাণ উদ্বৃত্ত দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত জায়গা আরবিআই-র হাতে রয়েছে।