আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর পূর্ব ঘোষণা মতোই আগামী ১০ জুলাই প্রথমবারের জন্য মুর্শিদাবাদ জেলা সফরে আসতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি সুত্রের খবর, মুর্শিদাবাদ জেলা সফরে এসে মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক বৈঠক করা ছাড়াও দলের নেতা-কর্মীদেরকে নিয়ে পৃথক একটি বৈঠক করবেন এবং রেজিনগর এলাকায় একটি রাজনৈতিক জনসভা করবেন। 

হুমায়ুন কবীরের একটি বিতর্কিত ভাষণের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একদিকে যেমন নওদার আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ককে ‘কড়া ভাষা’য় সাবধান করে দিয়েছিলেন।  অন্যদিকে, তিনি সেদিনই জানিয়ে দিয়েছিলেন এক সপ্তাহের মধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলা সফরে আসতে চলেছেন। 

মুর্শিদাবাদ জেলা বিজেপির এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সফরসূচি সোমবার দুপুর পর্যন্ত চূড়ান্ত না হলেও প্রাথমিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানা গিয়েছে ১০ তারিখ তিনি মুর্শিদাবাদ জেলা সফরে আসবেন। ওই দিন রেজিনগরে একটি রাজনৈতিক জনসভা করা ছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদেরকে নিয়ে পৃথক একটি বৈঠক করবেন। এর পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ জেলায় বিজেপির তিনটি সাংগঠনিক জেলার বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদেরকে নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর পৃথক একটি বৈঠক করার সম্ভাবনা রয়েছে। 

মুর্শিদাবাদ বরাবরই ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিকভাবে রাজ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। গঙ্গা নদীর তীরবর্তী এই জেলা কৃষি শিল্প  এবং সীমান্তবর্তী সংবেদনশীলতার জন্য পরিচিত। ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে এই জেলার বিভিন্ন স্তরে অর্থিক দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বেড়েছে। 

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দু’মাসের মধ্যে শুভেন্দুর মুর্শিদাবাদ জেলা সফর নিয়ে আশায় বুক বেঁধেছেন জেলার অসংখ্য মানুষ। জেলার মানুষ আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রীর সফরে রাজ্য সরকার একাধিক নতুন প্রকল্প যেমন চালু করতে পারে, তেমনি পুরনো প্রকল্পগুলো কাজে গতি পাবে। 

রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ এবং জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দফতরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী তথা মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, “এখনও পর্যন্ত আমরা জানতে পেরেছি আগামী ১০ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী মুর্শিদাবাদ জেলা সফরে আসছেন। সেদিন তিনি বহরমপুর রবীন্দ্র সদনে একটি প্রশাসনিক বৈঠক করার পাশাপাশি রেজিনগর এলাকায় একটি রাজনৈতিক জনসভা করতে পারেন।”

রাজ্যের মন্ত্রী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মুর্শিদাবাদে এসে এই জেলার সার্বিক বিকাশের জন্য একাধিক প্রকল্পের কথা ঘোষণা করতে পারেন। এর পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষায় মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে সীমান্তবর্তী এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফ-কে বেশ কিছু জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। সেই সংক্রান্ত বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী কোনও ঘোষণা থাকতে পারেন।”

গৌরীশঙ্কর ঘোষ আরও বলেন, “এবছরের রাজ্য বাজেটে জঙ্গিপুর মহকুমায় একটি নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করার কথা ঘোষণা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর হিসাবে শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম মুর্শিদাবাদ জেলা সফরে মুর্শিদাবাদ-জিয়াগঞ্জ ব্লকে আরও একটি নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরির ঘোষণা হতে পারে। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে থাকা লন্ডন মিশন হাসপাতাল নতুন করে চালু করার ঘোষণাও করবেন মুখ্যমন্ত্রী। মুর্শিদাবাদ জেলার গঙ্গা-পদ্মা নদীর ভাঙন প্রতিরোধ এবং সেখানকার মানুষের সমস্যা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে বড় কোনও চমক থাকতে পারে বলে আমরা আশাবাদী।”