আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের ২৪ ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই তমান্না খাতুন খুনকাণ্ডে আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। এই নিয়ে মামলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩ জন। 

ধৃতদের নাম জিয়ারুল শেখ ও সাবির শেখ। মঙ্গলবার গভীর রাতে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং নদিয়ার পলাশীপাড়া এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে কালীগঞ্জ থানার পুলিশ। মঙ্গলবার নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন নিহত তমান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন। 

মেয়ের খুনের ঘটনায় এখনও অধরা থাকা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে আশ্বাস দেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কোনও প্রকৃত দোষীই ছাড়া পাবে না। সেই আশ্বাসের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের এই সাফল্য সামনে এল।

এর দু’দিন আগে কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার সুপার অতুল ভি'র কাছে তমান্না খুনের ঘটনায় বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ডেপুটেশন দিয়েছিল বাম সংগঠন। পুলিশ সুপারও আশ্বাস দিয়েছিলেন, ১০ থেকে ২০ দিনের মধ্যে বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হবে। সেই আশ্বাসেরও ৭২ ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার আগেই আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হল। 

উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন কালীগঞ্জের মোলান্দি গ্রামে সকেট বোমার আঘাতে মৃত্যু হয় তমান্না খাতুনের। অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের ছোড়া বোমার আঘাতেই প্রাণ হারায় সে। ঘটনাটি ঘিরে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। 

তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথম দফায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। তবে বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে একাধিকবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হন নিহতের মা। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সাবিনা ইয়াসমিন ফের বিচার ও দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার আশ্বাস দেন এবং বিধানসভাতেও তমান্না খুনের প্রসঙ্গ তোলেন। এদিকে কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অতুল ভি জানিয়েছেন, ধৃত দুই অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার তাঁদের কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে তোলা হবে। মামলার বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।