বর্তমানে ফ্যাটি লিভার বা লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার সমস্যা অনেক মানুষের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে। আগে এই রোগ মূলত মদ্যপানের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হলেও এখন দেখা যাচ্ছে, যাঁরা মদ্যপান করেন না তাঁদের মধ্যেও এই সমস্যা হচ্ছে।
2
10
অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, অনিয়মিত জীবনযাপন এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার কারণে লিভারে ধীরে ধীরে চর্বি জমতে শুরু করে।
3
10
শুরুতে তেমন কোনও লক্ষণ না থাকলেও দীর্ঘদিন অবহেলা করলে লিভারে প্রদাহ, ফাইব্রোসিস এমনকী সিরোসিসের মতো জটিল সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
4
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে ওষুধের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এমন ৫টি খাবার রয়েছে যা নিয়মিত খেলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমে।
5
10
কফি: অনেকেই মনে করেন কফি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তবে পরিমিত পরিমাণে কফি খাওয়া লিভারের জন্য উপকারী হতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। দিনে ১ থেকে ২ কাপ চিনি ছাড়া বা কম চিনি দেওয়া কফি লিভারের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করতে পারে।
6
10
সবুজ শাকসবজি: পালং শাক, মেথি শাক, ব্রকোলি, লেটুসসহ বিভিন্ন সবুজ শাকসবজিতে প্রচুর ভিটামিন, খনিজ ও ফাইবার থাকে। এগুলো শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমা কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি লিভারের ওপর চাপও কমায়। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
7
10
ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ: স্যালমন, সার্ডিন, ম্যাকারেলসহ বিভিন্ন চর্বিযুক্ত মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। এই উপাদান শরীরের প্রদাহ কমায় এবং লিভারে জমে থাকা চর্বি কমাতে সাহায্য করে। সপ্তাহে অন্তত দু'বার এই ধরনের মাছ খেলে ভাল ফল পাওয়া যেতে পারে।
8
10
ওটস: সকালের খাবারে ওটস রাখলে তা ফ্যাটি লিভারের রোগীদের জন্য উপকারী হতে পারে। ওটসে প্রচুর ফাইবার থাকে, যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা ফ্যাটি লিভার কমানোর অন্যতম প্রধান উপায়।
9
10
বাদাম: কাঠবাদাম, আখরোট, পেস্তা বা অন্যান্য বাদামে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে। এগুলো শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে এবং লিভারের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। তবে অতিরিক্ত নয়, প্রতিদিন এক মুঠো বাদামই যথেষ্ট।
10
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু এই খাবার খেলেই ফ্যাটি লিভার সেরে যাবে না। পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, পর্যাপ্ত জল পান করা এবং ভাজাভুজি, সফট ড্রিঙ্কস ও অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলাও জরুরি।