আজকাল ওয়েবডেস্কঃ চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ। নতুন করে বিতর্কের মুখে প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিধায়ক মানস ভুঁইয়া। সেই অভিযোগের জেরে গ্রেফতারির আশঙ্কায় এবার আদালতের দ্বারস্থ হলেন মানস। নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় রক্ষাকবচ চেয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।

সূত্রের খবর, সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে ইতিমধ্যেই তাঁকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।

আইনজীবীদের একাংশের মতে, পুলিশি তদন্তের অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য গ্রেফতারির আশঙ্কা এড়াতে আগাম আইনি সুরক্ষার জন্যই আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন মানস ভুঁইয়া। আদালতে তাঁর আইনজীবীর তরফে আবেদন জানিয়ে বলা হয়েছে। তদন্তে সহযোগিতা করতে তিনি প্রস্তুত। তবে অযথা গ্রেফতারি পদক্ষেপ থেকে সুরক্ষা প্রয়োজন।

অন্যদিকে অভিযোগকারীদের দাবি, চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে অন্যায়ভাবে অর্থ আদায় করা হয়েছে। সেই অভিযোগের যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত। যদিও কয়েকদিন আগে মানস ভুঁইয়ার নিজে সেই অভিযোগ অস্বীকার করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলকে নিশানা করতে শুরু করেছে। এখন নজর আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে। আদালত মানস ভুঁইয়াকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষাকবচ দেবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই তৎকালীন মন্ত্রী তথা মানস রঞ্জন ভুঁইয়া এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ দুই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে পাঁচ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলে সবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এলাকার এক বাসিন্দা। অভিযোগকারী বিকাশ কুমার টুং। তিনি সবং বিধানসভার ১৬ নম্বর বিষ্ণুপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা।

তাঁর দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁর স্ত্রী মঞ্জু সাহু টুংকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। অভিযোগ ছিল, তৎকালীন মন্ত্রী ডা. মানস রঞ্জন ভুঁইয়ার মধ্যস্থতায় এবং তৃণমূল নেতা শেখ আবু কালাম বক্স ও ভোলানাথদের মাধ্যমে পাঁচ লক্ষ টাকার বিনিময়ে চাকরির ব্যবস্থা করা হয়।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, গত ১ মার্চ ২০২৬ তারিখে ‘সিআইএসবি সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড'-এর অধীনে স্টুয়ার্ড পদে তেমাথানী ইরিগেশন বাংলোয় কাজে যোগ দেন মঞ্জু সাহু টুং। তাঁর ওয়ার্কম্যান রেজিস্টার নম্বর ছিল সিআইএসবি/ডব্লুবি-৪৬। 

পরিবারের দাবি, চাকরিতে যোগদানের পর নিয়মিত কাজ করলেও মাত্র দু'মাসের মাথায় গত ৬ মে তাঁকে জানানো হয় যে তাঁর চাকরি বাতিল করা হয়েছে। এমনকী চাকরি বাতিলের নির্দেশের কপিও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ। 

জানা গিয়েছে, মার্চ মাসের বেতন হিসেবে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার ৭৪৭ টাকা জমা পড়ে। এদিকে হঠাৎ চাকরি বাতিল হয়ে যাওয়ার পর থেকেই পরিবার চরম বিপাকে পড়ে। 

অভিযোগকারী বিকাশ কুমার টুং-এর দাবি, এই ঘটনার পর থেকে তাঁর স্ত্রী মানসিক অবসাদে ভুগছেন। পাশাপাশি তিনি আশঙ্কা করছেন যে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ পরিণতির দিকে যেতে পারে। পুরো ঘটনায় সবং থানার পুলিশ লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।