আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে পরিবর্তন। কাঁথি পৌরসভায় সোমবার দুপুর ১২টা থেকে বিজেপির পক্ষ থেকে তুমুল বিক্ষোভ দেখানো হয়। বিজেপির অভিযোগ, পৌরবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। “ছাপ্পা মেরে জেতা কাউন্সিলররা লুটের রাজ চালাচ্ছেন”—এই অভিযোগ তুলে পৌর বোর্ডের বিরুদ্ধে সরব হন বিজেপি নেতা-কর্মীরা।
সৌমেন্দু অধিকারী, কাউন্সিলর তাপস দোলাই ও সুশীল দাসের নেতৃত্বে পৌর আধিকারিকদের নিয়ে একটি উন্নয়নমূলক বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে পৌর এলাকার নাগরিকদের কীভাবে উন্নত পরিষেবা দেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়। বিজেপির দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই পৌর এলাকার উন্নয়নের জন্য মুখ্যমন্ত্রী তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দের আশ্বাস দিয়েছেন, যাতে সাধারণ মানুষ সুষ্ঠু পরিষেবা পান।
বিক্ষোভে অংশ নিয়ে বিজেপি কাউন্সিলর ও কর্মীরা স্লোগান তোলেন, “পৌরসভা চালাতে না পারলে গদি ছাড়ুন।” এদিন পৌরসভা চত্বরে ছিল বাড়তি উন্মাদনা। বিজেপির দাবি, ২০২০ সালে নানা অপমান ও রাজনৈতিক চাপে সৌমেন্দু অধিকারীকে এই পৌরসভা ছাড়তে হয়েছিল। বর্তমানে সাংসদ হিসেবে তাঁর পৌরসভায় আগমনকে ঘিরে পৌরসভার দরজা-জানালার পর্দা গেরুয়া-সাদা রঙে সাজানো হয় এবং ফুল দিয়ে সজ্জিত করা হয় গোটা চত্বর।
বিজেপির আরও দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক কাউন্সিলর ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
অন্যদিকে, সোমবার প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে বৈঠক করেই, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন শুভেন্দু। বৈঠক শেষেই তিনি পাঁচ মন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়েই সাংবাদিক বৈঠক করে, স্পষ্ট কয়েকটি পয়েন্ট তুলে ধরেন। তাতে এক প্রকার স্পষ্ট, পুরনো সরকারের যেসব খামতির দিকে আঙুল তুলে, সুর চড়িয়ে, ক্ষমতায় এসেছেন, একেবারে শুরু থেকেই, সেদিকে নজর দিচ্ছেন তিনি। একদিকে যেমন প্রথম বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সীমান্ত সুরক্ষা প্রসঙ্গে, তেমনই সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের বয়স নিয়েও বিরাট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে কোন কোন সিদ্ধান্ত নিল শুভেন্দু-ক্যাবিনেট-
সীমান্ত সুরক্ষার জন্য বড় পদক্ষেপ। আজ থেকেই রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করবে। প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে দেবে রাজ্য সরকার। দায়িত্ব পালন করেবন মুখ্যসচিব এবং ভূমি ও রাজস্ব সচিব।
প্রথম বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, বাংলায় যুক্ত হল আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সঙ্গে। একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হল বাংলা। প্রায় সব কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু হবে বাংলায়।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএস-এ যুক্ত হল বাংলা।
সরকারি চাকুরীপ্রার্থীদের আবেদনের বয়সসীমা বাড়ল পাঁচ বছর।
বন্ধ হবে না চালু থাকা কোনও সামাজিক প্রকল্প।
আগামী সোমবার পরবর্তী মন্ত্রিসভার বৈঠক।















