মিল্টন সেন, হুগলি: স্বাস্থ্যকেন্দ্র সংলগ্ন জঙ্গল পরিষ্কার করতে কাটারি হাতে নিজেই নেমে পড়লেন বিধায়ক। চাঁপদানি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত চাঁপসরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বেহাল দশা। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিদর্শনে যান চাঁপদানির বিধায়ক দিলীপ সিং। হাসপাতালে পৌঁছে তিনি অবাক। স্বাস্থ্যকেন্দ্র নাকি ভূত বাংলো! চারিপাশে জঙ্গল। ঝোপ-জঙ্গলে পরিপূর্ণ বিল্ডিং। দেখলে মনে হতেই পারে পরিত্যক্ত কোনও বাড়ি। আগাছায় ঢাকা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বেহাল দশা দেখে নিজেই কাটারি হাতে জঙ্গল সাফ করতে নেমে পড়েন বিধায়ক। পরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।
বিধায়কের অভিযোগ, একদিকে পুরনো বিল্ডিং জঙ্গলে ভর্তি হয়ে আছে। অন্যদিকে, চিকিৎসক থাকার জন্য নতুন যে কোয়ার্টার করা হয়েছিল সেটাও উদ্বোধন হয়নি। গ্রামবাসীদের দাবি ছিল আরও কিছু বেশি সময়ের জন্য চিকিৎসক সেখানে দরকার। কোয়ার্টার চালু না হওয়ায় তাঁদের সেই দাবি পূরণ হয়নি। এদিন হাসপাতালের পরিষেবা নিয়েও ক্ষোভ উগড়ে দেন বিধায়ক। তিনি বলেছেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উন্নয়ন হবে। সাধারণ মানুষ যাতে পরিষেবা সঠিক ভাবে পান তার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তিনি কথা বলবেন। হাসপাতালে কর্মরত কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এদিন স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল এত খারাপ কেনও? এরকম অবস্থা কেনও জানতে চান বিধায়ক। স্বাস্থ্য পরিষেবা ঠিক করতে বা ভাল করে তোলার লক্ষ্যে কোথায় কোথায় আবেদন করেছেন জানতে চান। একই সঙ্গে চিঠির সেই কপি দেখতে চান।

গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বরে জঙ্গলে ভরে থাকায় বাচ্চাদের নিয়ে আসতে তাঁরা ভয় পান। আর ওই জঙ্গলে নিয়মিত মদ-গাঁজার আসর বসে। ক্ষুব্ধ দিলীপ সিংয়ের অভিযোগ, এই হাসপাতালকে নিয়ে অনেক দুর্নীতি হয়েছে। সব তদন্ত হবে। প্রাক্তন বিধায়ক হাসপাতালের কমিটিতে ছিলেন। তিনি কেনও এতদিন কিছু করেননি। বিধায়কের কুকুর থাকার জন্য সরকারি জায়গায় এসি লাগানো হয়, সাধারণ মানুষ চিকিৎসা পরিষেবা পান না।
পাল্টা চাঁপদানির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অরিন্দম গুইন বলেন, “ওই হাসপাতালে অনেকটা জায়গা আছে। তাঁর বেশ কিছু পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু কেন্দ্র সরকার টাকা দেয়নি। এখন তো ডবল ইঞ্জিন সরকার। বিধায়ক কাজ করুন। আর দুর্নীতির যে কথা বলছেন সেটা প্রমাণ করুন। না হলে তাঁকে অন্য কিছু ভাবতে হবে।”














