আজকাল ওয়েবডেস্ক: বারুইপুরে ১২ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের বহুল আলোচিত মামলায় মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যু। এবার ঘটনার তদন্তে নেমেছে সিআইডি। আদালতের নির্দেশে তদন্তভার পাওয়ার পর শুক্রবার চার সদস্যের একটি সিআইডি প্রতিনিধি দল বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় সেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, যেখানে ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের গুলিতে প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
সিআইডির তদন্তকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ সময় ধরে এলাকা পরিদর্শন করে। শুধু ঘটনাস্থল ঘুরে দেখাই নয়, অত্যাধুনিক ফরেন্সিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির সাহায্যে গোটা এলাকা খুঁটিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। কোথায় কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছিল, পুলিশের অবস্থান কোথায় ছিল, অভিযুক্ত কোন দিক দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল বলে দাবি করা হচ্ছে- এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে পর্যবেক্ষণ করেন তদন্তকারীরা।
তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় কী কী ঘটেছিল, সেই বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হয়। প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসার পর ঠিক কোন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, কীভাবে তিনি পুলিশের কাছ থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন এবং কোন পরিস্থিতিতে পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে, সেই সমস্ত বিষয়ের সঙ্গে ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতির মিলিয়ে দেখা হয়।
এছাড়াও তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফিতে দিয়ে মেপে নথিভুক্ত করেন। রাস্তার প্রস্থ, বিভিন্ন স্থানের দূরত্ব, সম্ভাব্য অবস্থান এবং ঘটনাক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক পয়েন্টের পরিমাপ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ঘটনাস্থলের বিভিন্ন দিক ভিডিওগ্রাফি ও ফটোগ্রাফির মাধ্যমেও নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
সিআইডির এই তদন্তের মূল উদ্দেশ্য হল এনকাউন্টারের ঘটনায় পুলিশের বর্ণনার সঙ্গে ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতির মিল রয়েছে কি না, তা যাচাই করা। পাশাপাশি ঘটনার প্রতিটি ধাপ বৈজ্ঞানিক ও ফরেনসিক পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ করে প্রকৃত সত্য সামনে আনার চেষ্টা করছে তদন্তকারী সংস্থা।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সিআইডির এক আধিকারিক জানান, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এই মুহূর্তে তদন্তের স্বার্থে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, গোটা বিষয়টি তদন্তকারী আধিকারিকই যথাসময়ে জানাবেন। তাই এখনই এনকাউন্টার নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হবে না।
উল্লেখ্য, বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য প্রভাস মণ্ডলকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। পুলিশের দাবি, সেই সময় অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করলে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় এবং পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সেই এনকাউন্টারের বৈধতা ও ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতেই বর্তমানে সিআইডি বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে।















