আজকাল ওয়েবডেস্ক: আগামী সোমবার থেকে রাজ্যে চালু হয়ে যাচ্ছে 'গুন্ডা দমন আইন এবং প্রেভেন্টিভ অ্যারেস্ট আইন'। শুক্রবার বহরমপুরে ঝটিকা সফরে এসে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনই জানালেন মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারী। 

শুক্রবার দুপুর নাগাদ শুভেন্দু অধিকারী সড়কপথে বহরমপুরে পৌঁছান। প্রথমে তিনি বহরমপুরের একটি বেসরকারি হোটেলে দলের বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার কোর কমিটির সদস্যদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। সেই বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে রবীন্দ্র সদনে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন। 

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, "মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন সীমান্ত সুরক্ষায় বিএসএফকে জমি দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্য জেলার তুলনায় ভালো কাজ করেছে।"

 তিনি বলেন," বিএসএফ-কে এই জেলায় ৩৬৩ একর জমি দেওয়ার কথা ছিল। আগের সরকারের আমলে জমি জটের কারণে সেই জমি দেওয়া হয়নি। মুর্শিদাবাদের অতিরিক্ত জেলাশাসক (এলআর) রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর অত্যন্ত ভালো কাজ করেছেন এবং দ্রুততার সঙ্গে ইতিমধ্যে বিএসএফ-কে ৩৩৮ একর জমি দেওয়া সম্ভব হয়েছে।"

 আজকের প্রশাসনিক বৈঠকে মুর্শিদাবাদ এবং মালদা জেলার গঙ্গা এবং পদ্মা নদীর ভাঙন নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, এই দুই জেলায় গঙ্গা এবং পদ্মা নদীর ভাঙন প্রতিরোধের জন্য ইতিমধ্যেই কেন্দ্র সরকারের কাছে ৩৬০০ কোটি টাকার একটি পরিকল্পনা পাঠানো হয়েছে। তার মধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলার ফরাক্কা থেকে ভগবানগোলা পর্যন্ত নদী ভাঙন প্রতিরোধের জন্য ২৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। 

মুখ্যমন্ত্রী শুক্রবার জানান, রাজ্যের তৃণমূল সরকারের আমলে মুর্শিদাবাদ জেলায় বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। লক্ষীর ভান্ডার, সংখ্যালঘু স্কিম, জাতিগত শংসাপত্র সহ বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে এই জেলায়। এছাড়াও আগের সরকার অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন না করে উপভোক্তাদের টাকা দেওয়াই প্রচুর ভুয়ো উপভোক্তা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিয়েছেন। এমনকী জেলা পরিষদে ভুয়ো 'ক্রেডেনশিয়াল' জমা দিয়ে প্রচুর কন্ট্রাক্টর কাজ নিয়েছেন। 

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী দু'মাসের মধ্যে সমস্ত বিডিওরা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে যে সমস্ত বেআইনি উপভোক্তাদের নাম ঢুকে রয়েছে তাদের চিহ্নিত করে আইননানুগ ব্যবস্থা নেবেন। এছাড়াও তিনি পরিযায়ী শ্রমিকদের জেলায় ফিরে আসার আবেদন জানান। বিভিন্ন তথ্য দিয়ে তিনি বলেন , একটি দরিদ্র প্রান্তিক পরিবার বর্তমানে সরকারের কাছে মাসিক প্রায় ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন। 

মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে প্রথম মুর্শিদাবাদ জেলা সফরে এসে শুভেন্দু অধিকারী মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের জন্যও একাধিক ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে নিউরো, কার্ডিয়াক ,নেফ্রো বিভাগের জন্য পাঁচ জন ডাক্তারকে নিযুক্ত করা হচ্ছে এবং কুড়িটি শয্যা এই বিভাগগুলোয় বাড়ানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি ক্যাথ ল্যাব এবং আরও দু'টি ডায়ালিসিস ইউনিট মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে চালু করা হবে। 

মুখ্যমন্ত্রী আজ জেলা পুলিশকে বিএসএফের সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় সমন্বয় বাড়ানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন, কোনও বিদেশে অনুপ্রবেশকারীকে ক্ষমা ঘেন্না করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রী আজ জেলাশাসক আর অর্জুনকে পাশে দাঁড় করিয়ে নির্দেশ দিয়ে যান," মুর্শিদাবাদের জেলে যে সমস্ত হিন্দু শরণার্থীরা বন্দী রয়েছেন সরকারি আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দ্রুত জেল মুক্তি করতে হবে।"

 

মুর্শিদাবাদ জেলায় সাম্প্রতিক সময় হওয়ার একাধিক দাঙ্গার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ধুলিয়ান সামশেরগঞ্জ , বেলডাঙ্গা, রেজিনগর শক্তিপুরের মত ঘটনা ঘটলে পুলিশকে কাউকে আর ফোন করতে হবে না। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং পুলিশ যে সমস্ত প্রশিক্ষণ নিয়েছে সেই আইন অনুযায়ী তাঁরা ব্যবস্থা নিতে পারবে। জেলায় আর বাস ,থানা, রেললাইন পোড়ানো হবে না। এসব অতীত। 

এরপরই মুখ্যমন্ত্রী জানান, নারী এবং কন্যা সুরক্ষার জন্যও পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নারী নির্যাতনের যে সমস্ত ঘটনায় অপরাধীদের নিম্ন আদালতে দোষী সাব্যস্ত করেছে কিন্তু উচ্চ আদালতে গিয়ে সেই সাজা আটকে রয়েছে সেই ক্ষেত্রেগুলোতে জেলাশাসক বিশেষ সরকারি আইনজীবী এবং এজি-র সঙ্গে কথা বলে তাদের দ্রুত সাজার ব্যবস্থা করবেন বলে জানান। 

মুখ্যমন্ত্রী আজ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন," রাজ্য বিধানসভায় খুব শীঘ্রই 'ইউনিফর্ম সিভিল কোড' বিল পাস হতে চলেছে এবং এর জন্য রঞ্জনা দেশাই কমিশন কাজ করছে। আগামী সোমবার থেকেই রাজ্যে গুন্ডা দমন বিল এবং প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট আইন কার্যকর হতে চলেছে। এর জন্য রাজ্যপাল প্রয়োজনীয় অনুমোদন ইতিমধ্যেই দিয়েছেন।"

এরপরই হুমায়ুন কবীরের নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন," এই জেলায় একজন বড় ভাষণবাজি করেছিল। তার ওপর বড় পদক্ষেপ করা হয়েছে। এমন ভাষণ আর করবেন না। পুলিশ খারাপ কাজ করলে আমি পুলিশমন্ত্রী এবং 'হোম-পার' মন্ত্রী ,আমাকে বিষয়গুলো জানান।"