সাবধান! পাহাড়ে এই ৮টি জিনিস সঙ্গে না রাখলেই মৃত্যু অনিবার্য, জানেন সেসব কী?
- 1
- 14
পাহাড়ের টান অগ্রাহ্য করা কঠিন। মেঘে ঢাকা উপত্যকা, পাইন বনের গন্ধ আর অজানা পাহাড়ি অমসৃণ রাস্তায় অ্যাডভেঞ্চার আমাদের বারবার টেনে নিয়ে যায় হিমালয়ের কোলে। কিন্তু মনে রাখবেন, দূর থেকে পাহাড়কে যতটা রোমান্টিক দেখায়, কাছ থেকে তা ঠিক ততটাই নিষ্ঠুর। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে হাজার হাজার ফুট উঁচুতে সামান্য একটা ভুল সিদ্ধান্ত বা অসাবধানতা মুহূর্তের মধ্যে আপনার রোমাঞ্চকর ট্রিপকে পরিণত করতে পারে মর্মান্তিক এক ট্র্যাজেডিতে।
- 2
- 14
উচ্চতাজনিত অসুস্থতা, তীব্র হাইপোথার্মিয়া কিংবা গভীর খাদে মারাত্মক পতন— পাহাড়ে মৃত্যুর হানা আসে নিঃশব্দে। আর তাই, ব্যাগ পিঠে দুর্গম ট্রেইলে পা রাখার আগে নিজের ডেথ-ওয়ারেন্ট নিজে সই করতে না চাইলে, এই ৭টি লাইফ-সেভিং সারভাইভাল টুল ব্যাগে থাকা চাই-ই চাই!
- 3
- 14
১. প্রাণঘাতী ডিহাইড্রেশন রুখতে: জল এবং ওয়াটার পিউরিফায়ার উঁচু পাহাড়ে ঠান্ডা আবহাওয়া দেখে অনেকে ভাবেন শরীরে জলের প্রয়োজন কম। এটাই সবচেয়ে বড় ভুল। পাহাড়ে অক্সিজেনের অভাব মেটাতে ফুসফুসকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়, যার ফলে নিঃশ্বাসের সঙ্গে শরীর থেকে প্রচুর জল বেরিয়ে যায়। মারাত্মক ডিহাইড্রেশন পাহাড়ে যেকোনো সময় আপনার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল করে দিতে পারে। তাই ব্যাগে অন্তত ২ লিটার জল সব সময় রাখুন। পাহাড়ি ঝোরার জল সরাসরি খেলে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণে পেট খারাপ বা বমি হতে পারে, যা পাহাড়ে আরও বিপজ্জনক। তাই সঙ্গে অবশ্যই রাখুন ওয়াটার পিউরিফিকেশন ট্যাবলেট বা কোনও ভাল ‘সারভাইভাল ফিল্টার’।
- 4
- 14
২. দুর্ভেদ্য অন্ধকারে ব্ল্যাক-আউট এড়াতে: হেডল্যাম্প (অতিরিক্ত ব্যাটারি সহ) ট্রেকিং করতে করতে পাহাড়ে আচমকা রোদ পড়ে সন্ধে নেমে আসে। দ্রুত ছড়াতে থাকে নিকষ অন্ধকার। আর পাহাড়ের অন্ধকার সমতলের মতো নয়, সেখানে এক হাত দূরের জিনিসও দেখা যায় না। মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে পাহাড়ি দুর্গম চড়াই-উতরাই পার হওয়া অসম্ভব। যেকোনও সময় পা হড়কে পাতালপ্রবেশ ঘটতে পারে। তাই সঙ্গে রাখুন একটি ভালো মানের ওয়াটারপ্রুফ হেডল্যাম্প। আর হ্যাঁ, ঠান্ডায় ব্যাটারি দ্রুত ডিসচার্জ হয়ে যায়, তাই অতিরিক্ত ব্যাটারি পকেটে রাখতে ভুলবেন না। হেডল্যাম্প ছাড়া অন্ধকারে আটকে পড়া মানে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে থাকা।
- 5
- 14
৩. মরণফাঁদ এড়াতে: হাই-অ্যাঙ্কেল ট্রেকিং শু পাহাড়ের আলগা মাটি, পিচ্ছিল পাথর বা বরফে একটু পা পিছলে যাওয়া মানেই সোজা কয়েক হাজার ফুট নিচের গিরিখাত। এই মারাত্মক পতন রুখতে সাধারণ স্নিকার্স বা স্পোর্টস শু পরে পাহাড়ে যাওয়া স্রেফ বোকামি। আপনার প্রয়োজন গভীর গ্রিপ বা ‘লাক’ যুক্ত হাই-অ্যাঙ্কেল ট্রেকিং শু। এটি আলগা মাটিতে আপনার পায়ের থাবা শক্ত করে বসিয়ে দেয় এবং অ্যাঙ্কেল সাপোর্ট দেওয়ার ফলে গোড়ালি মচকে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচায়।
- 6
- 14
৪. হাইপোথার্মিয়ার কামড় থেকে বাঁচতে: লেয়ারড ক্লথিং ও রেইনওয়্যার পাহাড়ে আবহাওয়া বদলাতে সময় লাগে মাত্র কয়েক মিনিট। ঝকঝকে রোদ নিমেষের মধ্যে হাড়কাঁপানো বরফ-ঝড়ে পরিণত হতে পারে। শরীর যদি একবার ভিজে যায় বা ঠান্ডা বাতাস সরাসরি বুকে লাগে, তবে শরীরের তাপমাত্রা আচমকা নেমে গিয়ে ‘হাইপোথার্মিয়া’ হতে পারে। আর হাইপোথার্মিয়া মানেই অবধারিত মৃত্যু! এর থেকে বাঁচতে সুতির জামাকাপড় একদম ত্যাগ করুন। থার্মাল ইনার, ইনসুলেটিং ফ্লিস জ্যাকেট এবং ওপর দিয়ে পরার জন্য উইন্ডপ্রুফ-ওয়াটারপ্রুফ রেইন জ্যাকেট— এই তিন স্তরের পোশাকের বর্মই পাহাড়ে আপনাকে বাঁচিয়ে রাখবে।
- 7
- 14
৫. যেকোনও মেডিক্যাল ইমার্জেন্সিতে: ফার্স্ট এইড ও নিজস্ব ওষুধ পাহাড়ের ওপরে চটজলদি কোনও নার্সিংহোম বা ডাক্তার পাবেন না। তাই আপনার ফার্স্ট এইড কিটই আপনার লাইফ-লাইন। তীব্র পাহাড়ি চড়াইয়ে পেশির টানের জন্য ক্র্যাপ ব্যান্ডেজ, যন্ত্রণা উপশমের জন্য পেনকিলার এবং সবচেয়ে জরুরি ‘এএমএস’ (Acute Mountain Sickness) বা হাই-অ্যাল্টিচিউড সিকনেসের ওষুধ ব্যাগে রাখতেই হবে। রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেলে এই ওষুধগুলোই ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
- 8
- 14
৬. এনার্জি ক্র্যাশ রুখতে: চটজলদি হাই-এনার্জি ফুড পাহাড়ে একটানা হাঁটার ফলে শরীর প্রচুর ক্যালোরি পোড়ায়। রক্তে শর্করার মাত্রা বা ব্লাড সুগার হঠাৎ কমে গেলে মাথা ঘুরে যেতে পারে, যা ট্রেইলের ওপর মারাত্মক ডেকে আনতে পারে। এর ফলে চিন্তাভাবনা করার ক্ষমতাও সাময়িকভাবে লোপ পায়। তাই ভারী খাবারের ভরসায় না থেকে পকেটে রাখুন ড্রাই ফ্রুটস, বাদাম, কিশমিশ এবং চকোলেট বার। এগুলো চিবোতে চিবোতে হাঁটলে শরীর তাৎক্ষণিক এনার্জি পায়।
- 9
- 14
৭. চোখের সুরক্ষায়: আল্ট্রাভায়োলেট প্রোটেকশন সানগ্লাস উঁচু পাহাড়ে, বিশেষ করে যেখানে বরফ রয়েছে, সেখানে সূর্যের আলো বরফে প্রতিফলিত হয়ে সরাসরি চোখে এসে লাগে। একে বলা হয় ‘স্নো ব্লাইন্ডনেস’। এর তীব্র ইউভি রশ্মি চোখের কর্নিয়াকে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই পাহাড়ি পথে চলতে চলতে চোখকে সুরক্ষিত রাখতে একটি ভাল মানের আল্ট্রাভায়োলেট প্রটেকশনযুক্ত সানগ্লাস চোখে গলিয়ে নেওয়া ফ্যাশন নয়, বাঁচার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
- 10
- 14
৮ ডায়ামক্স: হিমালয়ের বুকে যত উঁচুতে পা রাখা যায়, চারপাশের চেনা পৃথিবীটা যেন ততই হালকা হতে শুরু করে। বাতাসে কমতে থাকে অক্সিজেনের মাত্রা। আর ঠিক এই সময়ই অলক্ষ্যে হানা দেয় পাহাড়ি ট্রেকিংয়ের সবচেয়ে বড় ভিলেন— ‘এএমএস’ বা হাই-অ্যাল্টিচিউড সিকনেস। মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব থেকে শুরু করে ফুসফুস বা মস্তিষ্কে জল জমে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া— হাই অ্যাল্টিচিউড সিকনেসের রূপ এতটাই ভয়াবহ।
- 11
- 14
তবে এই মরণফাঁদ থেকে বাঁচতে অভিজ্ঞ ট্রেকার এবং চিকিৎসকদের সবচেয়ে বড় অস্ত্রের নাম ‘ডায়ামক্স’ (Diamox) বা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অ্যাসিটাজোলামাইড । কিন্তু এই ম্যাজিক ট্যাবলেট খাওয়ারও রয়েছে কিছু কড়া নিয়ম আর ভয়ংকর সতর্কতা। না জেনে এটি খেলে হিতে বিপরীত হতে সময় লাগবে না! অনেকেই ভাবেন ডায়ামক্স হয়তো শরীরে কৃত্রিমভাবে অক্সিজেন তৈরি করে, কিন্তু বিষয়টা তা নয়। ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি ব্লুমিংটন -এর গবেষক ও চিকিৎসকদের মতে, ডায়ামক্স মূলত আমাদের রক্তকে সামান্য অম্লীয় করে তোলে।
- 12
- 14
রক্তে অ্যাসিডের মাত্রা বাড়লে আমাদের মস্তিষ্ক ধরে নেয় শরীরে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে গেছে। ফলস্বরূপ, মস্তিষ্ক ফুসফুসকে দ্রুত ও গভীর শ্বাস নেওয়ার নির্দেশ দেয়। আর এই ঘন ঘন গভীর শ্বাসের কারণেই পাহাড়ে কম অক্সিজেনের মধ্যেও শরীর দ্রুত নিজেকে মানিয়ে নিতে বা ‘অ্যাক্লিম্যাটাইজ’ করতে শুরু করে। অগ্রিম প্রস্তুতি: পাহাড়ে হাই-অ্যাল্টিচিউডে পৌঁছানোর বা চড়াই শুরু করার অন্তত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগে এই ওষুধ খাওয়া শুরু করা উচিত, যাতে রক্তে ওষুধের সঠিক মাত্রা তৈরি হতে পারে। কোর্সের স্থায়িত্ব: সাধারণত উঁচুতে পৌঁছানোর পর প্রথম ৪৮ ঘণ্টা এই ওষুধ চালিয়ে যেতে হয়। তবে আপনি যদি প্রতিদিন আরও উঁচুতে আরোহণ (Ascend) করতে থাকেন, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এই কোর্স আরও দীর্ঘ হতে পারে।
- 13
- 14
সতর্কতা: ডায়ামক্স মূলত একটি ‘সুলফা-বেসড’ ড্রাগ। আপনার যদি কোনো ধরণের সুলফা ড্রাগ বা সালফোনামাইডে অ্যালার্জি থাকে, তবে এই ওষুধ ভুলেও ছোঁবেন না! এছাড়া যাদের লিভার বা কিডনির মারাত্মক সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্যও ডায়ামক্স সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অ্যালার্জি থাকা সত্ত্বেও এই ওষুধ খেলে অ্যানাফিল্যাক্সিসের মতো মারাত্মক অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশনে ট্রেইলের ওপরেই প্রাণ হারাতে হতে পারে।তাই আগামী ট্রেকিং ট্রিপে ব্যাগ গোছানোর সময় ডায়ামক্স অবশ্যই রাখুন, তবে তার আগে নিজের ফ্যামিলি ডক্টর বা কোনো মাউন্টেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞের স্ক্রিপশনে সিলমোহরটি করিয়ে নিতে ভুলবেন না যেন!
- 14
- 14












