আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করলেন অমিত শাহ। এদিন শুরুতেই নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিধানসভা নির্বাচনে সমস্ত জয়ী প্রার্থীদের ধন্যবাদ জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এদিন বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করলেও মঞ্চ থেকে তৃণমূল এবং বামেদের একহাত নেন অমিত শাহ। এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'পাঁচ দশক ধরে বাংলার গণতন্ত্র নষ্ট হয়েছে, অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে গিয়েছে। বাংলার উন্নয়ন ক্রমশ পিছিয়ে গিয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'মোদিজির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, আমরা বাংলার উন্নতিতে সর্বসাধ্য চেষ্টা করব।' এদিন ফের তৃণমূলকে আক্রমণ করেন শাহ। বলেন, 'বাম আমলে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল বাংলায়। মমতা ব্যানার্জি বাম আমলের থেকেও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। আমি সারা দেশ ঘুরেছি। কেরল এবং বাংলার মতো হিংসার পরিবেশ কোথাও দেখিনি।'
শাহের দাবি, এবার ক্ষমতায় এসে বাংলার মানুষের বিশ্বাস পূরণ করতে বদ্ধপরিকর বিজেপি। ২০১৪ সালে বিধানসভা উপনির্বাচনে জিতে শমীক ভট্টাচার্য বাংলায় প্রথমবার বিজেপির বিধায়ক হন।
সেখান থেকে ২০১৬ সালে ৩টি, ২০২১ সালে ৭৭টি আসন জেতে বিজেপি। তারপর ২০২৬ সালে ২০৭টি আসন পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। সেই প্রসঙ্গও এদিন উঠে আসে শাহের গলায়।
শাহ বলেন, '৯টি জেলায় তৃণমূল খাতাও খুলতে পারেনি। ভবানীপুরেও মমতা ব্যানার্জির ঘরে ঢুকে তাঁকে হারিয়েছেন শুভেন্দু। আমি এরকম জনাদেশ কোথাও দেখিনি। যেখানে বিরোধীদের কথা পর্যন্ত বলতে দেওয়া হয় না, সেখানে বিজেপি প্রতিপক্ষকে খাতা পর্যন্ত খুলতে দেয়নি।'
এদিন আরজিকর, সন্দেশখালির ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেন শাহ। জানান, 'আরজিকর এবং সন্দেশখালির ঘটনায় কমিশন তৈরি হবে। শুধু বাংলা নয়, সারা দেশে অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বের করব আমরা।'
বিজেপি বিধায়কদের নিয়ে যে বৈঠক কলকাতায় হয়েছে সেখানেই রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম চূড়ান্ত হল। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র থেকেই জয়ী হওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছিল। বিশেষ করে ভবানীপুরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে প্রায় ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করার ঘটনাকে বিজেপি “ঐতিহাসিক মোড়” বলে ব্যাখ্যা দিয়েছিল।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এদিনের বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীর নাম মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য প্রস্তাব করেন। যদিও শমীক ভট্টাচার্যের নামও মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে ছিলেন তবে শেষ পর্যন্ত শুভেন্দুর সাংগঠনিক দক্ষতা, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং নির্বাচনী সাফল্য তাঁকে এগিয়ে দিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার নাম চূড়ান্ত করা হয়।















