অনেকেই মনে করেন, ভাত খাওয়া মানেই মোটা হয়ে যাওয়া। তাই ওজন কমানোর চেষ্টা শুরু করলেই অনেক মানুষ প্রথমে ভাত খাওয়া কমিয়ে দেন বা একেবারে বন্ধ করে দেন।
2
10
চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা বলছেন, শুধু ভাত খাওয়ার জন্য ওজন বাড়ে না। আসল সমস্যা হল অতিরিক্ত খাওয়া, শরীরচর্চার অভাব এবং ভুল খাদ্যাভ্যাস।
3
10
ভাত আমাদের দৈনন্দিন খাবারের খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশে অধিকাংশ মানুষ প্রতিদিন ভাত খান। ভাতে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা শরীরকে শক্তি জোগায়। হাঁটা, কাজ করা বা দৈনন্দিন যে কোনও কাজ করার জন্য এই শক্তির প্রয়োজন হয়। তাই ভাত পুরোপুরি ডায়েট থেকে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।
4
10
তবে একসঙ্গে খুব বেশি পরিমাণে ভাত খেলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমতে পারে। আর সেই ক্যালোরি খরচ না হলে ধীরে ধীরে ওজন বাড়তে শুরু করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ভাত নয়, যে কোনও খাবার বেশি খেলেই ওজন বাড়তে পারে।
5
10
পুষ্টিবিদদের মতে, ভাত কীভাবে খাচ্ছেন সেটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি শুধু বেশি ভাতের সঙ্গে আলুভাজা, ফাস্ট ফুড, তেল-মশলাযুক্ত খাবার বা ঠান্ডা পানীয় খাওয়া হয়, তাহলে মোটা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
6
10
পরিমাণ মতো ভাতের সঙ্গে ডাল, সবজি, মাছ, ডিম বা মুরগির মাংস খেলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে।
7
10
অনেক বিশেষজ্ঞ ব্রাউন রাইস বা লাল চাল খাওয়ার পরামর্শ দেন। কারণ এতে বেশি ফাইবার থাকে, যা হজম ধীরে করে এবং দ্রুত ক্ষুধা লাগতে দেয় না। তবে সাদা ভাতও সম্পূর্ণ খারাপ নয়। পরিমাণ বুঝে খেললে সাদা ভাত থেকেও সমস্যা হয় না।
8
10
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবচেয়ে জরুরি হল পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ অর্থাৎ কতটা খাচ্ছেন সেটা দেখা। চিকিৎসকদের মতে, এক বেলায় পরিমাণ মতো ভাত খেলে এবং নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চা করলে ভাত খেয়েও সহজে ফিট থাকা সম্ভব।
9
10
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, অনেক সময় মানুষ ভাতকে দোষ দিলেও আসলে সমস্যার কারণ হয় অনিয়মিত জীবনযাপন। কম ঘুম, বেশি জাঙ্ক ফুড, সারাদিন বসে কাজ করা এবং শরীরচর্চা না করাও ওজন বাড়ার বড় কারণ।
10
10
তাই ভয় পেয়ে ভাত পুরোপুরি বাদ দেওয়ার দরকার নেই। বরং সঠিক পরিমাণে, সুষম খাবারের সঙ্গে ভাত খেলে শরীরও ভাল থাকবে, আবার ওজনও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।