তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড়সড় পালাবদলের ইঙ্গিত। অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়ের দল টিভিকে এবার সরকার গঠনের একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে বাকি দলগুলি এবং কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে টিভিকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় জোটের আসন সংখ্যা ১১৮-র ম্যাজিক পৌঁছে গিয়েছে।
2
8
রাজ্যের এবারের নির্বাচনে কোনও একক দলই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে সরকার গঠনের জন্য জোট রাজনীতি ছিল অনিবার্য। সেই পরিস্থিতিতে দ্রুত রাজনৈতিক সমীকরণ সাজাতে শুরু করে টিভিকে। প্রথম থেকেই বিজয় নিজেকে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। তাঁর দলের তরুণ মুখ, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং প্রশাসনিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি সাধারণ মানুষের মধ্যে যথেষ্ট সাড়া ফেলেছিল।
3
8
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা শুরু হয়। অবশেষে ভিসিকে, সিপিআই, সিপিআইএম, সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে কংগ্রেসও এই জোটে সামিল হওয়ায় সংখ্যার অঙ্ক বদলে যায়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সমর্থন শুধু সরকার গঠনের রাস্তা খুলে দেয়নি, বরং তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
4
8
বিশেষজ্ঞদের মতে, দলিত ভোটব্যাঙ্কে প্রভাবশালী ভিসিকে এবং বাম দলগুলির সমর্থন টিভিকে-র রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে কংগ্রেসের যোগদান জোটকে জাতীয় স্তরেও গুরুত্ব এনে দিয়েছে। এর ফলে বিরোধী শিবিরের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
5
8
রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— মুখ্যমন্ত্রী পদে কি নিজেই বসবেন বিজয়? যদিও এখনও পর্যন্ত টিভিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেনি, তবে দলের অন্দরে বিজয়কেই স্বাভাবিক পছন্দ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সমর্থকদের দাবি, সিনেমার পর এবার প্রশাসনের ময়দানেও নতুন ইতিহাস গড়তে পারেন তিনি।
6
8
এদিকে বিরোধীরা অবশ্য এই জোটকে “স্বার্থের সমঝোতা” বলে কটাক্ষ করেছে। তাদের দাবি, আদর্শের মিল নয়, শুধুমাত্র ক্ষমতায় আসার লক্ষ্যেই এই জোট গড়া হয়েছে। যদিও টিভিকে নেতৃত্বের বক্তব্য, মানুষের স্বার্থেই সব বিরোধী শক্তি একজোট হয়েছে এবং স্থিতিশীল সরকার গঠনই এখন মূল লক্ষ্য।
7
8
তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ইতিহাসে চলচ্চিত্র জগতের প্রভাব নতুন নয়। এমজি রামচন্দ্রন, জয়ললিতা থেকে শুরু করে করুণানিধি— বহু তারকাই রাজনীতিতে সাফল্য পেয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বিজয়ের উত্থান নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
8
8
সব মিলিয়ে, জোট রাজনীতির জটিল অঙ্কে আপাতত বড়সড় সুবিধাজনক অবস্থানে টিভিকে। এখন নজর রাজ্যপালের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে।