আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত।  বিজেপি বিধায়কদের নিয়ে যে বৈঠক কলকাতায় হয়েছে সেখানেই রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম চূড়ান্ত হল। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র থেকেই জয়ী হওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছিল। বিশেষ করে ভবানীপুরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে প্রায় ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করার ঘটনাকে বিজেপি “ঐতিহাসিক মোড়” বলে ব্যাখ্যা দিয়েছিল।


বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এদিনের বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীর নাম মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য প্রস্তাব করেন। যদিও শমীক ভট্টাচার্যের নামও মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে ছিলেন তবে শেষ পর্যন্ত শুভেন্দুর সাংগঠনিক দক্ষতা, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং নির্বাচনী সাফল্য তাঁকে এগিয়ে দিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার নাম চূড়ান্ত করা হয়।

 

এরপর সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, রাজ্যর মুখ্যমন্ত্রীর পদে আর কোনও নাম ছিল না। তাই সর্বসম্মতিক্রমে শুভেন্দু অধিকারীকেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। পরিষদীয় দলনেতা হিসাবেও তিনিই থাকছেন। 


এদিন কলকাতায় বিজেপির বিধায়ক দল বৈঠক ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। নবনির্বাচিত বিধায়করা একে একে বৈঠকে যোগ দেন। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালও।  তাঁকে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হল।  ডেপুটি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও তাঁর নামও স্থির করা হয়। 


বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “আজ ডা. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। বাংলার মানুষ বিজেপিকে বিপুল সমর্থন দিয়েছেন, তার জন্য আমরা তাঁদের ধন্যবাদ জানাই।” তাঁর এই মন্তব্য বিজেপি কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী করা হলে বিজেপি বাংলায় শক্তিশালী সাংগঠনিক বার্তা দিতে পারবে। একদিকে তিনি দক্ষিণবঙ্গের জনপ্রিয় মুখ, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি দলের অন্যতম প্রধান কৌশলবিদ হিসেবে উঠে এসেছেন। নন্দীগ্রামের লড়াই থেকেই তিনি রাজ্যের রাজনীতিতে বড় প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।


অন্যদিকে, অগ্নিমিত্রা পালকে উপ মুখ্যমন্ত্রী করা হচ্ছে। নারী নেতৃত্বের দিক থেকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিল বিজেপি। ফ্যাশন ডিজাইনার থেকে রাজনীতিতে আসা অগ্নিমিত্রা ইতিমধ্যেই দলের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন।


 বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশের দাবি, এই ফলাফল বাংলার রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে। এর অপেক্ষায় ছিলেন বঙ্গের বিজেপি সমর্থকরা।  শনিবারই কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের দায়িত্ব বুঝে নেবেন শুভেন্দু অধিকারী। সেদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিজেপির হেভিওয়েট নেতারা সেদিন উপস্থিত থাকবেন। কলকাতা ইতিমধ্যে এই শপথ গ্রহণকে ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে। শুক্রবার সকাল থেকেই এখানে এসেছেন বিজেপির জাতীয় স্তরের নেতারা। ফলে সেখান থেকে দেখতে হলে রাজ্যে বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারী এবার একেবারে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন।  

&t=136s