আজকাল ওয়েবডেস্ক: মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গেলেন এক মহিলা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার রাত দু’টো নাগাদ মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ থানার অন্তর্গত জয়কৃষ্ণপুর–চাঁদনীদহ গ্রামে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিখোঁজ ওই মহিলার নাম সারিনা খাতুন (২৯)। কবিরাজ হিসেবে এবং ‘ঝাড়ফুঁক–তুকতাক’–এর মাধ্যমে অসুস্থ মানুষকে সুস্থ করে দেওয়ার জন্য সারিনার এলাকায় যথেষ্ট নাম ডাক হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের অনুমান সারিনার সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে কেউ বা কারা তাঁকে মাঝরাতে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছে। সারিনাকে যে জায়গা থেকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যদের অনুমান সোমবার সকালেও সেখানে শুকিয়ে যাওয়া রক্তের দাগ দেখতে পাওয়া গিয়েছে।
ইতিমধ্যেই সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তকারীদের অনুমান সারিনার রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার পেছনে বড় কোনও কারণ রয়েছে। ইতিমধ্যেই তদন্তকারীরা এই ঘটনায় একাধিক ‘ক্লু’ পেয়েছেন। তার ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ এই তদন্তের অগ্রগতির বিস্তারিত বিবরণ দিতে রাজি হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জয়কৃষ্ণপুর–চাঁদনীদহ এলাকার বাসিন্দা সারিনা খাতুন বাড়িতে তাঁর বাবা–মার সঙ্গে থাকেন। এলাকায় কবিরাজি চিকিৎসা এবং তুকতাক–ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে অসুস্থ মানুষকে সুস্থ করে দেওয়ার জন্য এলাকায় তাঁর যথেষ্ট নামডাক হয়েছে।
রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ সারিনা খাতুনের মা জাহেরা বিবি বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো রবিবার রাতেও মেয়ে আমার পাশে ঘুমিয়ে ছিল। রাত দু’টো নাগাদ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য সে বাড়ির শৌচালয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ পরও সে ফিরে না আসায় আমি ঘরের বাইরে গিয়ে মেয়ের খোঁজ করতে থাকি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাড়ির আলো জ্বালিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করার পর আমার মেয়েকে কোথাও দেখতে পাইনি। শৌচালয়ের সামনে রক্তের সরু ধারা দেখতে পাই। আমার অনুমান রাতের অন্ধকারে জোর করে আমার মেয়েকে কেউ অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছে।’
জাহেরা বিবি আরও বলেন, ‘আমার মেয়ে ভাল রোজগার করছিল বলে কয়েকজনের চক্ষুশূল হয়ে উঠেছিল। আমাদের পরিবারের কয়েকজনও সারিনাকে দেখতে পারত না। তাঁদের মধ্যে কেউ আমার মেয়ের সঙ্গে খারাপ কিছু করে থাকতে পারে বলেও আমার সন্দেহ।’
ওই মহিলা আরও জানান, ‘সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই আমাদের বাড়িতে এসে একাধিক নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে গিয়েছে এবং আমার সঙ্গেও কথা বলেছে। আমি পুলিশের কাছে দাবি রেখেছি আমার মেয়েকে সুস্থ শরীরে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য।’
