আজকাল ওয়েবডেস্ক: রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেখাগিয়েছিল চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে। এসসিও বৈঠকের মঞ্চে তিন রাষ্ট্রনেতার ওই ছবি ঘিরে আলোড়ন পড়ে যায়। চিন্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এপরই ট্রাম্পের সুর কিছুটা নরম। এবার হোয়াইট হাউস সূত্র উল্লেখিত মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুসারে, আগামী অক্টোবরেই দক্ষিণ কোরিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈঠক করতে পারেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে। এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-আপোরেশনের (এপেক) বাণিজ্যমন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগদানের জন্য নীরবে দক্ষিণ কোরিয়া সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। দক্ষিণ কোরিয়ার গিয়ংজু-তে এই হাইপ্রোফাইল বৈঠক হতে পারে।

যদিও এই বৈঠক নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা শনিবার বলেছেন যে, দক্ষিণ কোরিয়ায় সফর নিয়ে আলোচনা চলছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতাই এই সফরের প্রধান লক্ষ্য হবে। এপেক-এর ফাঁকে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক নিয়ে জোরদার আলোচনা হয়েছে, তবে এখনও চূড়ান্ত কোনও পরিকল্পনা হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসন প্রেসিডেন্টের দক্ষিণ কোরিয়া সফরকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আরও অর্থনৈতিক বিনিয়োগ অর্জনের সুযোগ হিসেবেও দেখছে। এছাড়া, প্রতিরক্ষা এবং অসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার উপর আলোকপাত করা হতে পারে। সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী সফর-সহ তাঁর সাম্প্রতিক বিদেশ সফরের মূল লক্ষ্য ছিল এটিই। অক্টোবরের শেষের দিকে বা নভেম্বরের প্রথম দিকে গিয়ংজু শহরে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই শীর্ষ সম্মেলনকে ট্রাম্পের জন্য প্রেসিডেন্ট শি'র সঙ্গে দেখা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে ধরা হচ্ছে। 

উল্লেখ্য, গত মাসে এক ফোনালাপে শি জিনপিং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার স্ত্রীকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই আমন্ত্রণে সাড়া দেওয়ার কথা জানান, যদিও কোনও নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

এপেক বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন থাকবেন কিনা তা স্পষ্ট নয়। তিনি বৈঠকে যোগ দিলে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁরও একপ্রশ্থ আলোচনা হতে পারে। তবে মার্কিন প্রশাসন নীরবে এখন ট্রাম্র-জিনপিং বৈঠকেই মনোনিবেশ করছেন। 

গত সপ্তাহে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং এপেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন যে, পরিস্থিতি ট্রাম্পকে কিমের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ করে দিতে পারে। শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প লিকে বলেছিলেন যে, তিনি কিমের সঙ্গে দেখা করতে ইচ্ছুক। ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা সম্পর্কে দাবি করেন, "আমি দেখা করব, এবং আমরা আলোচনা করব। তিনিও আমার সঙ্গে দেখা করতে চান। আমরা তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি এবং আমরা সম্পর্ক আরও উন্নত করব।"

সম্পর্ক শুধরানোর চেষ্টার ইঙ্গিত দিলেও মার্কিন শুল্ক-বোমার জেরে একদা 'বন্ধু' মোদির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক তলানীতে। শুল্ককে কেন্দ্র করে চীনের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক তেমন ভাল নয়। এদিকে কাছাকাছি আসছে চীন, ভারত, রাশিয়া। এসসিও সম্মেলনেই তাঁর আভাস পাওয়া গিয়েছে। ফলে কিছুটা বেকায়দায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাই তিনি কিছুয়া অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতেই দক্ষিণ কোরিয়া সফর করবেন, বৈঠক করতে পারেন শি এবং কিম উভয়ের সঙ্গেই। 

শি গত সপ্তাহেই বেজিংয়ে কিম, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আতিথ্য করেছেন। পাল্টা ট্রাম্প বারবার ঘোষণা করেছেন যে, প্রেত্যেক নেতার সঙ্গে তাঁর দৃঢ় ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। 

এই অবস্থায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে নিজের বন্ধুত্বের প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, "মোদি আমার খুবই ভালো বন্ধু। কয়েক মাস আগে তিনি এখানে এসেছিলেন। আমরা রোজ গার্ডেনে সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলাম। আমার সঙ্গে সবসময় মোদির বন্ধুত্ব থাকবে। উনি খুব বড় প্রধানমন্ত্রী। আমি সব সময় বন্ধু থাকব।" কিন্তু রাশিয়ার থেকে তেল কেনার বিষয়ে নিজের হতাশার কথা জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, "এখন তিনি যা করছেন, সেটা আমার পছন্দ নয়। কিন্তু ভারত এবং আমেরিকার বন্ধুত্ব গভীর। চিন্তা করার কোনও কারণ নেই।"