আজকাল ওয়েবডেস্ক: মিশরের লোহিত সাগর তীরের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হুর্গাদায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫৭ বছর বয়সী এক জার্মান পর্যটক। হোটেলের একটি লাইভ অনুষ্ঠানে সাপুড়ের ‘সাপ খেলা’ দেখতে গিয়ে গোখরা সাপের কামড়ে তার এই আকস্মিক মৃত্যু পর্যটন নগরীটিতে শোক ও আতঙ্কের ছায়া ফেলেছে। জার্মানির বাভারিয়া অঞ্চলের উন্টারআলগাউ জেলা থেকে পরিবারের সঙ্গে আনন্দময় সময় কাটাতে এসে এমন করুণ পরিণতি হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।

মেট্রো’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিনোদনের অংশ হিসেবে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে দর্শকদের খুব কাছ থেকে সাপ দেখার এবং তাদের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সাপুড়ে যখন তার কসরত দেখাচ্ছিলেন, তখন তিনি একটি গোখরা সাপকে ওই পর্যটকের প্যান্টের ভেতর দিয়ে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই সাপটি তাকে কামড়ে দেয়। বিষক্রিয়ার লক্ষণগুলো এতোটাই দ্রুত প্রকাশ পায় যে মুহূর্তের মধ্যেই ওই ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি; চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর জার্মানির মেমিংগেন এলাকার প্রসিকিউটর ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। বিষক্রিয়ার প্রকৃতি এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত ও টক্সিকোলজি রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। যদিও প্রাথমিক প্রতিবেদনে মিশরীয় কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি বলে জানানো হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

এই দুর্ঘটনা আবারও ‘সাপকে সম্মোহিত’ করার পুরোনো কায়দাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে বলছেন, সাপকে কোনওভাবেই সম্মোহিত করা সম্ভব নয়। সাপুড়ের বাঁশির সুর বা দুলুনি দেখে সাপ যে নড়াচড়া করে, তা কোনও  সম্মোহন নয় বরং এটি সাপের আত্মরক্ষার একটি কৌশল মাত্র। নড়াচড়া বা কম্পনের ফলে সাপ উত্তেজিত থাকে এবং যেকোনও  সময় বিপদ অনুভব করলে ছোবল মারতে পারে। 

পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে বিনোদনের নামে বিষধর বন্যপ্রাণীর এমন ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহার নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠছে। অনেক সময় এসব খেলায় ব্যবহৃত সাপের বিষদাঁত ভেঙে দেওয়া হলেও বিপদের ঝুঁকি থেকেই যায়। বন্যপ্রাণীর অনিশ্চিত আচরণ এবং মানুষের অতি সন্নিকট অবস্থান যে কোনও  মুহূর্তে প্রাণঘাতী হতে পারে, যার প্রমাণ এই দুর্ঘটনা। দীর্ঘদিনের প্রচলিত এই সাংস্কৃতিক পরিবেশনাগুলোর নিরাপত্তা মান এবং নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে ভাববার সময় এসেছে বলে মনে করছেন প্রাণী বিশেষজ্ঞরা।