আজকাল ওয়েবডেস্কঃ ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত। যুদ্ধের জেরে বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যেই তেল উৎপাদক গোষ্ঠী ওপেক এবং ওপেক+ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী বা ইউএই। মঙ্গলবারই আনুষ্ঠানিক ভাবে সেই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে তারা। যা ইতিমধ্যেই ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে। তবে এই সিদ্ধান্ত যে শুধু মাত্র অর্থনৈতিক কারণে গ্রহণ করা হয়েছে, এমন নয়। বরং, এর পেছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সর্বভারতীয় এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর, ওপেক ছেড়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর বেরিয়ে এসে আসার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। একদিকে যেমন ওপেক-এর নেতৃত্বে থাকা সৌদি আরবকে 'শিক্ষা' দিতে চায় ইউএই। অন্য দিকে, পাকিস্তানকেও বিপাকে ফেলতে চায় তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্প্রতি ইরান-আমেরিকার যুদ্ধে ইরানের আক্রমণের মুখে পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। তাদের উপর ড্রোন ও মিসাইল হামলার পড়েও ওপেক-এর জোট সঙ্গী সৌদি আরব কোনও ভূমিকা পালন করেনি। ঝুঁকির মুখে পাল্টা আক্রমণ করার সাহস দেখায়নি। এ দিকে, ওপেক-এর সদস্য হিসাবে সৌদি আরবের বেঁধে দেওয়া কোটা মেনেই তেল উৎপাদন করার অনুমতি ছিল ইউএই-র। এতে তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হচ্ছিল। উৎপাদন বাড়িয়ে মুনাফার মুখ দেখা সম্ভব হচ্ছিল। তাই ব্যবসায়িক স্বার্থেই এ বার স্বাধীন ভাবে তেল উৎপাদন এবং বিক্রি করতে চায় তারা। এর ফলে বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সঙ্কট কিছুটা মিটবে বলেই ধারণা।
অন্য দিকে, পাকিস্তানও একটি বড় 'ফ্যাক্টর', তাদের এই সিদ্ধান্তের পেছনে। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধে পাকিস্তান নিরপেক্ষ থেকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করায় ক্ষুব্ধ ইউএই। ইরানের হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে কোনও রাজনৈতিক সমর্থন না পাওয়াই তাদের ক্ষোভের কারণ। পাশাপাশি, ইউএই-র প্রতিপক্ষ সৌদি আরবের সঙ্গেও সম্প্রতি প্রতিরক্ষা চুক্তি সেরে ফেলেছে পাকিস্তান। পাকিস্তান-সৌদির এই গভীর আঁতাত। তাদের স্বার্থের পরিপন্থী হবে বলেই মনে করছে তারা। এ জন্য ইতিমধ্যেই তারা পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক থেকে ৩.৫ মিলিয়ন আমানত তুলে নেয়। যা পাকিস্তানের অর্থনীতির জন্য বেশ বড় ধাক্কা।
বিশেষজ্ঞদের মত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববাজারে তেলের সঙ্কট যেমন কিছুটা মেটাবে। তেমনি দামও কমবে জ্বালানির। পাশাপাশি, ট্রাম্প ওপেক-এর বড় সমালোচক হওয়ায়, আমেরিকার সঙ্গেও তাদের সম্পর্ক মজবুত হবে। যা আদতে বিশ্বে তাদের অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে সাহায্য করবে।















