আজকাল ওয়েবডেস্ক: পায়ের পাতায় চিড় ধরেছিল। উঠে দাঁড়াতে পারছিলেন না তিনি। কিন্তু দল যখন বিপন্ন ম্যানচেস্টারে, তখন তিনি ব্যাট হাতে তরতরিয়ে নেমে এলেন সাজঘর থেকে। ব্যাট করলেন বুকে সাহস নিয়ে। ঋষভ পন্থ সেদিন অবাক করে দিয়েছিলেন গোটা বিশ্বকে। অনিল কুম্বলের সঙ্গে তুলনা শুরু হয়ে গিয়েছিল পন্থের।
ম্যানচেস্টার থেকে ওভাল আর কত দূর! সেখানেও তো দেখা গেল অসম সাহসী এক ক্রিস ওকসের লড়াই। দিনান্তে তিনি হয়তো পরাজিতের দলে। ইংল্যান্ড হেরে গেল। কিন্তু জিতে গেলেন ক্রিস ওকস।
চোটের জন্য বল করতে পারেননি ওকস। যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন তিনি। প্রথম দিন ফিল্ডিং করার সময় কাঁধে চোট পান ওকস। কাঁধের হাড় সরে গিয়েছে। তার পর আর ম্যাচে নামতে পারেননি। কিন্তু দলের প্রয়োজনে তিনি নিজের জীবন বাজি রাখতে পারেন। তিনি তৈরি ছিলেন। কাঁধের হাড় সরে গিয়েছিল ওকসের। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার ইয়র্কারে টংয়ের স্টাম্প উপড়ে যেতেই সাজঘর থেকে সিঁড়ি বেয়ে নেমে এলেন ওকস। তিনি ভাঙা হাতে লড়াইয়ের মঞ্চে অবতীর্ণ হন। ওই ব্যাট যেন তাঁর তলোয়ার।
আরও পড়ুন: ক্রিকেটের বাইরেও কোহলির মধ্যে রয়েছে এই চারটি গুণ, এত দিনে প্রকাশ্যে আনলেন মাহি
এক হাতে ব্যাট। অন্য হাত স্ট্র্যাপ দিয়ে মোড়ানো ছিল। স্ট্রাইক পেলে এক হাতে তাঁকে ব্যাট করতে হবে। এমনকী বোলাররা তাঁকে ব্যাকফুটে ফেলার জন্য কাঁধ লক্ষ্য করে বল করতেও পারেন। ওকস দেশের জন্য, দলের জন্য মাভৈঃ বলে ব্যাট হাতে নেমে পড়লেন।
Christopher Roger Woakes ❤️ pic.twitter.com/np2G5JIiJj
— England Cricket (@englandcricket)Tweet by @englandcricket
ওভাল টেস্ট শেষ হওয়ার পরই শুভমান গিলকে দেখা যায় তিনি ও ক্রিস ওকস কথা বলছেন। ওকসের সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে যান ভারত অধিনায়ক। ঋষভ পন্থও ইংল্যান্ডের তারকার প্রশংসা করেন। সেই প্রসঙ্গে ওকস বলেন, ''আমি দেখেছি আমার একটা ছবি পন্থ ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছে। সেই সঙ্গে স্যালুট ইমোজি দিয়েছে। আমিও পন্থকে জবাব দিই, তুমি যে ভালবাসা গিলে তার প্রশংসা করি। আশা করি পা ঠিক আছে।'' ওকসের এহেন মেসেজের পরে পন্থ ভয়েস নোট পাঠিয়েছেন। সেখানে পন্থ বলেছেন, ''আশা করি সবকিছু ঠিকই আছে। দ্রুত সেরে ওঠো। তার জন্য শুভকামনা রইল। আশা করি আবার আমাদের একদিন দেখা হবে।"
পন্থের পা ভাঙার জন্য কিছুটা হলেও দায়ী ছিলেন ওকস। তাঁরই ইয়র্কার এসে আছড়ে পড়ে পন্থের পায়ে। ভারতের তারকা উইকেট কিপারের চোটের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন ওকস। অন্যদিকে শুভমান গিল বলেছেন, ''তোমার অস্বাভাবিক সাহসিকতা দেখে আমি মুগ্ধ।''
গিলকে প্রশংসা ফিরিয়ে দিয়ে ওকস বলেন, ''শুভমানকে বলেছি, অবিশ্বাস্য এক সিরিজ গিয়েছে তোমার। খুব ভাল খেলেছো। তোমার দলকে কৃতিত্ব দিই। দু'দলের খেলোয়াড়রা নিজেদের নিংড়ে দিয়েছে। এই উপভোগ্য লড়াইয়ের জন্য কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের প্রাপ্য। দুটো দলই জিততে চেয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ ড্র হয়। এটা সব দিক থেকে ভাল হল।''
জয়ের গন্ধ পেতে শুরু করেছিল ইংল্যান্ড। শেষ দিনে দরকার ছিল ৩৫ রান। ভারতের জিততে দরকার ছিল ৪টি উইকেট। এক হাতে স্ট্র্যাপ বেঁধে নেমে পড়েন ওকস। তাঁকে একটা বলও হয়তো খেলতে হয়নি কিন্তু প্রতিটি রানের জন্য দৌড়নোর সময়ে তাঁকে যন্ত্রণায় কাতরাতে দেখা গিয়েছে। তবুও রূপকথার শেষ হল না ইংল্যান্ডের। ওকস বলছেন, ''আমি এখনও হতাশ। ভিতরে ভিতরে ভেঙে পড়েছি। আমরা যখন একশো রান দূরে তখনও মনে হয়নি যে ব্যাট করতে নামব না। আমি যখন ব্যাট হাতে নামছিলাম, তখন সবাই হাততালি দিচ্ছিলেন। ভারতীয় ক্রিকেটাররা তাদের শ্রদ্ধা জানিয়েছে।'' অ্যাটকিনসনের জন্য প্রথম যে রানটা তিনি নিয়েছিলেন, সেটা নিতে গিয়েই দম বেরিয়ে যাওয়ার জোগাড় হয়েছিল ওকসের। তাঁর মনে হয়েছিল আবার হয়তো কাঁধটা খুলে এসেছে।
আরও পড়ুন: তারকা ক্রিকেটারের পরামর্শে সিদ্ধান্ত বদল, মুম্বইয়ের থাকছেন যশস্বী...
