আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারত-ইংল্যান্ড টেস্ট সিরিজে বারবার বল বদলের ঘটনা নিয়ে চরম বিতর্ক শুরু হয়েছে। তিন টেস্টেই একাধিকবার বল বদল করতে বাধ্য হয়েছেন আম্পায়াররা। কারণ ডিউকস বল খুব তাড়াতাড়ি নরম ও আকারচ্যুত হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বল প্রস্তুতকারক সংস্থা ব্রিটিশ ক্রিকেট বলসের কর্ণধার দিলীপ জাজোদিয়া জানিয়েছেন, পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট। জাজোদিয়া বলেন, ‘আমি চাইলে বলের কেন্দ্রে একটি পাথর বসিয়ে দিতে পারি, তাতে বল অনেক কঠিন হবে, কিন্তু তাতে ব্যাট ও আঙুল ভাঙবে। খেলাটাই তখন ক্ষতিগ্রস্ত হবে’ তিনি আরও জানান, বলের কাঁচামাল যেমন গরুর চামড়া, কর্ক, রাবার, সবই প্রাকৃতিক। তাই মানের ওপর পুরো নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন।

ডিউকস বলের খ্যাতি বরাবরই ছিল এর সুইং ও স্থায়িত্বের জন্য। কিন্তু চলতি সিরিজে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। খেলোয়াড়দের অভিযোগ, বল মাত্র ১০ ওভার পরেই নরম হয়ে যাচ্ছে এবং তার আকারও আর ঠিক থাকছে না। বিশেষত ব্যাটিং সহায়ক পিচে ব্যাটাররা বড় রানের ইনিংস খেলছেন ফলে বলেও দ্রুত ক্ষয় হচ্ছে। সাধারণত টেস্টে ৮০ ওভার পর নতুন বল নেওয়া যায়, কিন্তু এই সিরিজে ১০ ওভারের মধ্যেই বল বদল ঘটছে। লর্ডস টেস্টের দ্বিতীয় দিনে মাত্র কয়েক ওভার পরেই ভারতীয় দল বল নিয়ে আপত্তি তোলে। শুভমান গিলকে আম্পায়ারের সঙ্গে তর্ক করতে দেখা যায়।

প্রাক্তন ইংল্যান্ড ক্রিকেটার ইয়ান ওয়ার্ড বল বদলের সময় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘ড্রিঙ্কস ব্রেকেই যদি বল বদলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হত, তাহলে সাত মিনিট সময় নষ্ট হত না’। স্টুয়ার্ট ব্রড এক ধাপ এগিয়ে বলেন, ‘আমরা প্রতিটি ইনিংসেই বল বদলাচ্ছি, এটা গ্রহণযোগ্য নয়। ডিউকস বলের সমস্যা আছে। এটা ওরা ঠিক করুক’। ইংল্যান্ডের জো রুট প্রস্তাব দিয়েছেন, বলের অবস্থা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করার জন্য প্রতি ৮০ ওভারে তিনটি সুযোগ দেওয়া হোক প্রতিটি দলকে। ভারতীয় সহ-অধিনায়ক ঋষভ পন্থ বলেন, ‘বল খুব দ্রুত আকারচ্যুত হচ্ছে। এটা প্লেয়ারদের জন্য বিরক্তিকর। প্রতিটি বল আলাদা আচরণ করছে। একবার বল বদলালে আচরণও বদলে যাচ্ছে, যা ব্যাটারদের পক্ষে খুবই কঠিন’।

এই বিতর্কের পরিস্থিতিতে জাজোদিয়া জানিয়েছেন, সমস্ত বল ফেরত নিয়ে পুনরায় পরীক্ষা করা হবে এবং প্রয়োজনে কাঁচামাল ও প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে পরিবর্তন আনা হবে। তিনি বলেন, ‘এই বল প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি, কিন্তু আমরা চেষ্টা করব মান উন্নয়নের’। ২০২২ সালে কোভিডের সময় চামড়ার উৎপাদনে সমস্যা ও ভুল রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে খারাপ মানের একটি ব্যাচ তৈরি হয়েছিল বলে জানান জাজোদিয়া। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আরও সচেতন তারা। ডিউকস বলের উপর নির্ভর করে ইংল্যান্ডের টেস্ট ম্যাচের ঐতিহ্য। কিন্তু বারবার বল বদলের ঘটনা খেলায় ছন্দপতন ঘটাচ্ছে, সময় নষ্ট হচ্ছে এবং খেলোয়াড়দের মানসিক দিক থেকেও প্রভাব ফেলছে। একাধিক তারকা খেলোয়াড়ের মন্তব্য ও বিশ্লেষকদের প্রতিক্রিয়ার পর এবার বল প্রস্তুতকারক সংস্থাও জোরালো পদক্ষেপের কথা ভাবছে।