নিতাই দে: ত্রিপুরার উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন বিধায়ক কিশোর বর্মণ। গত ৩ জুলাই তিনি পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেও শুক্রবার তাঁকে দেওয়া হয় উচ্চ শিক্ষা, পঞ্চায়েত ও জিএ (পলিটিক্যাল)-এর দায়িত্ব। কিশোর বর্মণ বিজেপির দীর্ঘদিনের কর্মী। উত্তরবঙ্গে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব সামলেছেন। ত্রিপুরাতেও তাঁকে বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলাতে দেখা গিয়েছে। উচ্চ শিক্ষিত কিশোর বর্মণের ওপর সে কারণে রাজ্যের উচ্চশিক্ষার ভার দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. মানিক সাহা। বর্তমান সরকারের আমলে রাজ্যে উচ্চ শিক্ষা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ত্রিপুরায় শিক্ষার-হাব তৈরির চেষ্টা চলছে পুরোদমে। তাই কিশোর বর্মণের নতুন দায়িত্ব রাজ্যে উচ্চ শিক্ষার পরিকাঠামো ও মানোন্নয়নে সাফল্য আনতে সহায়ক হবে বলে অনেকে আশাপ্রকাশ করেছেন।

নয়া উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী শুক্রবার একসঙ্গে তিন দপ্তরের দায়িত্ব হাতে পাওয়ার পর প্রথম দিনই তিন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মহাকরণের মন্ত্রী অফিসে সৌজন্য সাক্ষাৎ সহ তিন দপ্তরের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন আধিকারিকদের সঙ্গে। এরপর ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নয়া উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রী কিশোর বর্মন। জানা গিয়েছ, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা উচ্চশিক্ষা, পঞ্চায়েত এবং সাধারণ প্রশাসন (পলিটিক্যাল) এই তিনটি দপ্তরকে একসঙ্গে আগামী দিনে কিভাবে পরিচালনা করবেন সে ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী কিশোর বর্মণকে।

সম্প্রতি, আগরতলার ওমেন্স কলেজকে একটি পূর্ণাঙ্গ ওমেন্স ইউনিভার্সিটি হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এর ব্যবহার শুরু হয়েছে, যা ডিজিটাল যুগে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্যে বর্তমানে ৩০টি স্কুলে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ২৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৪৪টি স্কুলে নতুন ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৫৩ কোটি টাকা। পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে রাজ্য সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী তথা শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা।

ছাত্রীদের শিক্ষা-সুবিধা নিশ্চিত করতে নবম শ্রেণীর ছাত্রীদের বিনামূল্যে সাইকেল এবং কলেজে ছাত্রীদের জন্য সমস্ত ফি মকুব করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মেধা পুরস্কার, সুপার ৩০ প্রকল্প, ও অভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রশ্নপত্র চালুর মাধ্যমে শিক্ষার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সুপার ৩০ প্রকল্পের অধীনে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ জন শিক্ষার্থী আইআইটি, ৩ জন এনআইটি, এবং ৩ জন এমবিবিএস কোর্সে সুযোগ পেয়েছে। এনসিইআরটি পাঠ্যক্রম চালু করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্কুলকে ইংলিশ মিডিয়ামে রূপান্তর করা হয়েছে।