আজকাল ওয়েবডেস্ক: লর্ডসে ফিরেই স্বমহিমায় যশপ্রীত বুমরা। ৭৪ রানে তুলে নিলেন ৫ উইকেট। হেডিংলির পর লর্ডস। মাঝে এজবাস্টন টেস্ট খেলেননি। কিন্তু দলে ফিরেই আবারও নজির বিশ্বের একনম্বর পেসারের। বুমরার শিকার জো রুট, হ্যারি ব্রুক, বেন স্টোকস, ক্রিস ওকস এবং জোফ্রা আর্চার। তারকা পেসারের কাঁধে ভর করে ৩৮৭ রানে ইংল্যান্ডের ইনিংস শেষ করতে সক্ষম হয় শুভমন গিলরা। সর্বোচ্চ রান রুটের। ১০৪ রান করে বুমরার বলে বোল্ড হন। প্রথমদিনের শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ব্রিটিশদের রান ছিল ২৫১। ৯৯ রানে ব্যাট করছিলেন রুট। ৩৯ রানে ছিলেন স্টোকস। দ্বিতীয় দিনের শুরুতে সুবিধা করতে পারেনি দুই ব্যাটারই। দুই সেট ব্যাটারকে ফিরিয়ে দেন বুমরা। দু'জনেই এদিন ৫ রান যোগ করে। ১০৪ রানে রুটের স্ট্যাম্প ছিটকে দেন তারকা পেসার। তার আগেই অবশ্য ফেরেন বেন স্টোকস। অর্ধশতরান হয়নি। ৪৪ রানে আউট হন। পরপর দুই ওভারে দু'জনকে ফেরত পাঠান বুমরা। এটাই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট।
প্রথম দিন ইংল্যান্ডের চার উইকেট তুলে নেয় ভারত। একমাত্র অর্ধশতরান রুটের। ৪৪ রানে আউট হন অলি পোপ। দুই ওপেনার জ্যাক ক্রলি এবং বেন ডাকেট আবার ব্যর্থ। রুটের দক্ষিণ্যে আড়াইশো রান পার করে ইংল্যান্ড। বড় রান করতে এদিন প্রাক্তন অধিনায়কের দিকেই তাকিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই প্যাভিলিয়নে ফিরে যাওয়ায় চাপে পড়ে যায় দল। অল্প রানে আউট হন স্টোকসও। অর্ধশতরান পাননি। কিন্তু জ্যামি স্মিথ এবং ব্রাইডন কার্সের পার্টনারশিপে ঘুরে দাঁড়ায় থ্রি লায়ন্সরা। বিপজ্জনক জুটি ভাঙেন মহম্মদ সিরাজ। দু'জনকেই ফেরত পাঠান তিনি। ৫১ করে আউট হন আগের টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান স্মিথ। ৫৬ করেন কার্স। পাঁচ উইকেট পান বুমরা। জোড়া উইকেট মহম্মদ সিরাজ এবং নীতিশ কুমার রেড্ডির। এজবাস্টনে ১০ উইকেট নেওয়া আকাশ দীপ লর্ডসে প্রথম ইনিংসে উইকেটশূন্য। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই যশস্বী জয়েসওয়ালের উইকেট হারায় ভারত। তিনটে চার মেরে শুরু করলেও, মাত্র ১৩ রানে ফেরেন। চার বছর পর লাল বলের ক্রিকেটে ফিরেই প্রথম উইকেট তুলে নেন আর্চার।
টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বেন স্টোকস। আগের দুই টেস্ট থেকে শিক্ষা নিয়ে লর্ডসে কোনও ঝুঁকি নিতে চাননি। কিন্তু হেডিংলি এবং এজবাস্টনের পিচের সঙ্গে মিল নেই লর্ডসের উইকেটের। তাই প্রথমে ব্যাট করেও রানের পাহাড় গড়তে পারেনি ইংল্যান্ড। বুমরার পাঁচ উইকেটে ম্যাচে ফেরে ভারত। দ্বিতীয় দিন ম্যাচের পরিস্থিতি ৫০-৫০। দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে পিচের চরিত্র আহামরি নয়। সুতরাং, ঘাবড়ানোর কোনও কারণ নেই ভারতীয় ব্যাটারদের। ধৈর্য ধরে খেলতে পারলে, ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের রান ছাপিয়ে যেতে পারে টিম ইন্ডিয়া। তবে ঋষভ পন্থের চোট বড় চিন্তা। এদিন উইকেটকিপিং করতে পারেননি। প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে তাঁকে দেখা যাবে কিনা জানা নেই। ব্যাট করতে না পারলে সেটা ভারতের জন্য বড় ধাক্কা হবে। কারণ দারুণ ছন্দে রয়েছেন পন্থ। হেডিংলিতে জোড়া শতরান করে নজির গড়েন।
