আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইন্দোরে নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের বড় অংশ জুড়েই নজর ছিল নির্ভরযোগ্য ড্যারেল মিচেলের উপর। মাঝের ওভারগুলোতে একপ্রকার ইনিংস ধরে রেখে আবারও দলের ভরসার স্তম্ভ হয়ে ওঠেন তিনি।

তবে ইনিংস যত এগোয়, ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণকারী হয়ে ওঠেন গ্লেন ফিলিপস। অসাধারণ এক শতরান করে তিনি সিরিজ ডিসাইডারে লড়াইয়ে রাখেন নিউজিল্যান্ডকে।

নিয়মিত ব্যাটিং পজিশনের থেকে এক ধাপ ওপরে পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ফিলিপস শুরুটা করেছিলেন অত্যন্ত সতর্কভাবে। বাউন্ডারি আসছিল না সহজে।

ভারতীয় বোলাররাও শুরুতে তাঁকে চাপে রেখেছিলেন। প্রথম চার মারতে ফিলিপসের লেগে যায় ৩৬ বল। মহম্মদ সিরাজের বলে একটি পুল শটে চাপ কিছুটা কাটে।

সেই সময়ে অন্য প্রান্তে মিচেল স্ট্রাইক রোটেট করে রানের গতি ধরে রাখেন এবং ফিলিপসকে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দেন। ফিলিপসের ইনিসং ছিল সুপরিকল্পিত।

তাড়াহুড়ো না করে ইনিংস গড়ে তোলাতেই মন দেন তিনি। একসময় তাঁর রান ছিল ৩৫ বলে ২১। পরিসংখ্যানের বিচারে খুব একটা ভয়ঙ্কর না হলেও, উইকেট বাঁচিয়ে রেখে ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ ফেরাতে সেই অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

মাঝপথে খেলার সামান্য বিরতিই যেন মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বিরতির পর আচমকাই গতি বাড়ান ফিলিপস। মাত্র ১১ বলে ২১ থেকে পৌঁছে যান ৪৩ রানে। পেস ও স্পিন দু’ধরনের বোলিংয়ের বিরুদ্ধেই সুযোগ বুঝে আক্রমণ করেন তিনি।

টাইমিং আরও নিখুঁত করেন ইনিংস এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে। ফুটওয়ার্কে বারবার পরিবর্তন এনে ভারতীয় বোলারদের একের পর এক আক্রমণ করতে থাকেন।

এরপর দেখা যায় নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসনের এক দাপুটে প্রদর্শনী। ফাঁক খুঁজে বল পাঠান সীমানার বাইরে, ওভারপিচড বলের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেন এবং ক্রিজের ব্যবহার করে বোলারদের অস্বস্তিতে ফেলেন।

মাত্র ৮৩ বলে শতরান পূর্ণ করেন ফিলিপস। ধৈর্যশীল ইনিংস শুরুর পর এমন ঝোড়ো শতরান তাঁর পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতারই প্রমাণ।

ড্যারেল মিচেলের সঙ্গে তাঁর জুটিই হয়ে ওঠে নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের মেরুদণ্ড। দু’জনে মিলে যোগ করেন বিশাল ২১৯ রান, যার ফলে ম্যাচের গতি পুরোপুরি ঘুরে যায়।

মিচেলের উপস্থিতি ফিলিপসকে ইনিংস গড়ে তুলতে সাহায্য করে, আর দু’জনের মধ্যে ভারসাম্য ছিল চোখে পড়ার মতো। ফিলিপস শতরান ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিউজিল্যান্ড ডাগআউটে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।

সতীর্থরা দাঁড়িয়ে হাততালি দেন, আর মিচেল এগিয়ে এসে তাঁকে আলিঙ্গন করেন। ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ইনিংসকে স্বীকৃতি দেন ভারতীয় ক্রিকেটাররাও।

সাধারণত ছ’নম্বর ব্যাটার হিসেবে পরিচিত হলেও, পাঁচ নম্বরে নেমে ফিলিপস প্রমাণ করে দিলেন চাপ সামলে ইনিংস গড়ার পাশাপাশি সুযোগ পেলেই বিধ্বংসী রূপ নিতে পারেন তিনি।