আজকাল ওয়েবডেস্ক: জনগণনা সংক্রান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে সোমবার ঘোষণা করা হয়েছে যে, ২০১১ সালের পর দেশের জনসংখ্যা গণনা হবে দু'টি পর্যায়ে। প্রথম ধাপে চলতি বছরের ১ অক্টোবর এবং দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ মার্চ হবে জনগণনা।

জনগণনার প্রথম ধাপ, গৃহতালিকাকরণ অভিযান (HLO) নামে পরিচিত। এই পর্যায়ে সম্পদ, পারিবারিক আয়, বাড়ির পরিস্থিতি এবং সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই প্রথমবার এইসব প্রশ্নের জবাবে উত্তরদাতারা বাড়ি থেকেই দিতে পারবেন। এবারই প্রথম দেশজুড়ে প্রথম ডিজিটাল আদমশুমারি হবে।

দ্বিতীয় ধাপে হবে জনসংখ্যা গণনা (PE)। পরিবারের প্রতিটি ব্যক্তির সম্পর্কে জনসংখ্যাতাত্ত্বিক, আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। প্রথমবারের মতো, এবার জাতিগত জনগণনাও আদমশুমারির অন্তর্ভুক্ত হবে।

২০২৭ সালের জনসংখ্যা ঘোষণার মাধ্যমে নারী সংরক্ষণ বিল এবং বিতর্কিত সীমানা নির্ধারণের পথ পরিষ্কার করা হয়েছে। যা ১৯৭১ সাল থেকে  সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে থমকে ছিল। মহিলা সংরক্ষণ বিলের মাধ্যমে লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণ হয়। তবে আদমশুমারি পরিচালনার পরেই যা কার্যকর হতে পারে, তারপরে সীমানা নির্ধারণের প্রক্রিয়া।

সীমানা নির্ধারণ হল জনসংখ্যার ভিত্তিতে নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রক্রিয়া। তবে, ১৯৭৬ সালের ৪২তম সংশোধনী আইনের মাধ্যমে ২০০০ সাল পর্যন্ত এই বিষয়টি স্থগিত ছিল।

জানা গিয়েছে, যে রাজ্যগুলিতে বরফ পড়ার সম্ভাবনা থাকে, সেই রাজ্যগুলি বাদে বাকি সমস্ত রাজ্যে জনগণনা শুরু হবে ২০২৭ সালের ১ মার্চ। অন্যদিকে হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, লাদাখ ও জম্মু কাশ্মীরের মতো রাজ্যগুলিতে জনগণনার কাজ শুরু হবে ২০২৬ সালের ১ অক্টোবরে। 

ভারতে প্রতি ১০ বছর অন্তর আদমশুমারি হয়ে থাকে। কিন্তু ২০১১-র পর এ দেশে আর জনগণনা হয়নি। ২০২১ সালে জনগণনা হওয়ার কথা থাকলেও করোনা অতিমারীর জেরে সেটা পিছিয়ে দেওয়া হয়। শোনা গিয়েছিল, ২০২৩ সালে জনগণনা হতে পারে। কিন্তু ভোটের আগে সে পথে হাঁটেনি মোদি সরকার। সব মিলিয়ে মোদি জমানায় একবারও জনগণনা হয়নি। তাতে সরকারের অন্দরে নানা ধরনের প্রশ্নও উঠছিল। অবশেষে গত বছর জনগণনার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র।