আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের মৈনপুরীতে এক গৃহবধূর চাঞ্চল্যকর অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে। নিজের স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুকের জন্য নির্যাতন এবং অন্য পুরুষদের সঙ্গে 'অস্বাভাবিক যৌন লালসা' মেটানোর অভিযোগ এনেছেন তিনি। অভিযুক্ত যুবক মুম্বাইয়ের একটি সংস্থায় এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত এবং মাসে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা আয় করেন। কিন্তু সেই শিক্ষিত ও উচ্চপদস্থ স্বামীর এমন 'দ্বিচারিতা' ফাঁস হতেই স্তম্ভিত স্থানীয় মানুষ।

গত ২৯ এপ্রিল দায়ের করা এফআইআর অনুযায়ী, রূপালী গুপ্তা নামে ওই মহিলার সাথে ২০২৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি এটার বাসিন্দা শিবম গুপ্তার বিয়ে হয়। রূপালীর পরিবারের দাবি, ঘটা করে মৈনপুরীতে আয়োজিত সেই বিয়েতে নগদ এবং গয়না মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই শিবমের মন ভরেনি। অভিযোগ, আরও ৫০ লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবিতে রূপালীর ওপর শুরু হয় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। এমটেক ডিগ্রিধারী শিবম কর্মসূত্রে মুম্বাই থাকলেও প্রতি ১৫ দিন অন্তর বাড়ি ফিরতেন।

নির্যাতিতা স্ত্রীর দাবি, বিয়ের পর থেকেই তাঁর প্রতি স্বামীর কোনও  আগ্রহ ছিল না। শারীরিক সম্পর্ক এড়িয়ে চলতেন শিবম। স্বামীর এই অদ্ভুত আচরণে সন্দেহ দানা বাঁধলে রূপালী তাঁদের ভাড়া ফ্ল্যাটে লুকিয়ে ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেন। এফআইআর-এ বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২১ জুন সেই ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শিউরে ওঠেন রূপালী। তিনি দেখতে পান, তাঁর স্বামী অন্য পুরুষদের বাড়িতে ডেকে এনে আপত্তিকর এবং 'অস্বাভাবিক' সম্পর্কে লিপ্ত হচ্ছেন। এই দৃশ্য দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি।

ঘটনাটি এখানেই শেষ নয়; রূপালী যখন শিবমকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং শ্বশুরবাড়িতে জানানোর কথা বলেন, তখন তাঁকে খুনের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ভয়ে এতদিন চুপ করে থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিচারের আশায় আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। রূপালীর আরও অভিযোগ, প্রথমে স্থানীয় থানা তাঁর অভিযোগ নিতে চায়নি। পরে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপের পর ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং যৌতুক বিরোধী আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগকারিণীর দেওয়া ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।