আজকাল ওয়েবডেস্ক: ছত্তিশগড়ের কাঙ্কের জেলায় এক ভয়াবহ আইইডি (IED) বিস্ফোরণে প্রাণ হারালেন ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ডের (DRG) তিন জওয়ান। শনিবার ছোট বেঠিয়া থানা এলাকার জঙ্গলে জওয়ানরা যখন মাওবাদীদের পোঁতা মাইন নিষ্ক্রিয় করার কাজ করছিলেন, তখনই এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। গত ৩১ মার্চ বস্তার অঞ্চলকে ‘সংগঠিত সশস্ত্র মাওবাদী কার্যকলাপ মুক্ত’ বলে ঘোষণা করেছিল রাজ্য প্রশাসন। সেই ঘোষণার পর এই প্রথম বড় কোনও  প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, কাঙ্কের ও নারায়ণপুর জেলার সীমানা সংলগ্ন বনাঞ্চলে জওয়ানরা একটি যৌথ তল্লাশি অভিযানে নেমেছিলেন। তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল মাওবাদীদের পোঁতা গোপন বিস্ফোরক খুঁজে বের করে এলাকা নিরাপদ করা। ডিআরজি-র একটি দল যখন একটি আইইডি শনাক্ত করে তা নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করছিল, তখনই আচমকা সেটি বিস্ফোরিত হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ইনস্পেক্টর সুখরাম ভাট্টি, কনস্টেবল কৃষ্ণ কোমরা এবং কনস্টেবল সঞ্জয় গাধপালে-র। এই ঘটনায় পরমানন্দ কোমরা নামে চতুর্থ এক জওয়ান গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।

বস্তার রেঞ্জের আইজি সুন্দররাজ পি জানিয়েছেন, গত কয়েক মাসে আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই অঞ্চলে কয়েকশ আইইডি উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আজ অপারেশন চলাকালীন একটি বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করার সময় সেটি ফেটে যায়, যার ফলে আমরা আমাদের তিন সাহসী জওয়ানকে হারিয়েছি।” উল্লেখ্য, ডিআরজি মূলত স্থানীয় আদিবাসী যুবকদের নিয়ে গঠিত ছত্তিশগড় পুলিশের একটি বিশেষ শাখা, যারা মাওবাদী দমনে অত্যন্ত দক্ষ বলে পরিচিত।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে অঞ্চলটিকে মাওবাদী-মুক্ত ঘোষণা করার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী হামলাটি ঘটল। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাওবাদীরা তাঁদের উপস্থিতি জানান দিতে এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতেই এই ধরনের চোরাগোপ্তা মাইন পুঁতে রাখছে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থার নিশ্ছিদ্রতা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তদন্তকারী আধিকারিকরা এখন খতিয়ে দেখছেন যে, এই বিস্ফোরকগুলো আগে থেকেই পোঁতা ছিল নাকি সম্প্রতি কোনও  সক্রিয় দল এই কাজ করেছে।