আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের শিল্পাঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের অলিগলি—শ্রমিকদের জীবনযাত্রা ও উপার্জনের ধরনে এক বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। একদিকে নয়ডার শিল্পাঞ্চলে অশান্তির পর শ্রমিকরা যখন কাজে ফিরছেন, অন্যদিকে শহরের গিগ শ্রমিকরা বা ডেলিভারি পার্টনাররা ভুগছেন উপার্জনের তীব্র সংকটে। এই দুই ভিন্নধর্মী চিত্র দেশের শ্রমবাজারের বর্তমান অস্থিরতাকে প্রকট করে তুলেছে।

গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে নয়ডার শিল্পাঞ্চলে যে তীব্র শ্রমিক আন্দোলন শুরু হয়েছিল, মে মাসের শুরুতেই সেখানে স্থিতি ফিরতে দেখা গেছে। ১৩ এপ্রিলের সেই হিংসাত্মক আন্দোলনের জেরে শেষমেশ উত্তরপ্রদেশ সরকার ন্যূনতম মজুরি সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অদক্ষ শ্রমিকদের মাসিক বেতন ১৩,৬৯০ টাকা, আধা-দক্ষদের ১৫,০৫৯ টাকা এবং দক্ষ শ্রমিকদের ১৬,৮৬৮ টাকা ধার্য করা হয়েছে। তবে সরকারি এই ঘোষণা সত্ত্বেও শ্রমিকদের মনে সংশয় কাটছে না। তাঁদের বড় অংশই চিন্তিত যে, কোম্পানিগুলো আদেও এই বর্ধিত বেতন কার্যকর করবে কি না। অনেক শ্রমিকই এখন পরবর্তী বেতন চক্রের দিকে তাকিয়ে আছেন বাস্তব চিত্রটি বোঝার জন্য।

শিল্পাঞ্চলের এই আন্দোলনের উল্টো পিঠে শহরের গিগ ইকোনমি বা ডেলিভারি ব্যবস্থার চিত্রটি বেশ উদ্বেগজনক। জোম্যাটো বা ব্লিনকিট-এর মতো সংস্থাগুলির সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, চাহিদার তুলনায় ডেলিভারি পার্টনারদের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ফুড ডেলিভারি ক্ষেত্রে পার্টনারের সংখ্যা ৩০% বাড়লেও অর্ডারের সংখ্যা বেড়েছে মাত্র ১৫%। কুইক কমার্সের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান আরও বেশি—পার্টনার বেড়েছে ১২১% আর অর্ডার বেড়েছে ৯৩%। 

এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে শ্রমিকদের পকেটে। খণ্ডকালীন কর্মীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় শিফট প্রতি অর্ডারের পরিমাণ কমে গেছে। যেখানে ২০২৪ সালের শুরুতে প্রতি অর্ডারে ৩৪ থেকে ৪২ টাকা পাওয়া যেত, ২০২৫-এর শেষে এসে তা কিছু এলাকায় মাত্র ১০ থেকে ১৫ টাকায় ঠেকেছে। তেলেঙ্গানা গিগ অ্যান্ড প্ল্যাটফর্ম ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি শেখ সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, একই পরিমাণ টাকা রোজগার করতে এখন শ্রমিকদের অনেক বেশি সময় রাস্তায় পড়ে থাকতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে প্রথাগত শিল্প শ্রমিকরা যখন ন্যূনতম মজুরি আদায়ের জন্য লড়ছেন, তখন গিগ শ্রমিকরা বিপুল প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে ক্রমেই তাঁদের দর কষাকষির ক্ষমতা হারাচ্ছেন। ভারতের শ্রমবাজারের এই অস্থিরতা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।