আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের পুলিশ বাহিনীর এক উল্লেখযোগ্য অংশ দায়িত্ব পালনের সময় নির্যাতন ও হিংসা প্রয়োগকে সমর্থন করেন বলে দাবি করা হয়েছে ‘স্ট্যাটাস অফ পলিসিং ইন ইন্ডিয়া রিপোর্ট ২০২৫’-এ। কমন কজ এবং লোকনিতি-সিএসডিএস (সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অফ ডেভেলপিং সোসাইটিজ) দ্বারা পরিচালিত এই গবেষণার প্রতিবেদনে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনাগুলিরও উদ্বেগজনক ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টটি গত বুধবার প্রকাশিত হয়, যেখানে পুলিশ সদস্যদের একাংশের মধ্যে আইনের শাসনের প্রতি অমর্যাদা ও গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া না মেনে চলার অভিযোগ তোলা হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, পুলিশের ২৬ শতাংশ সদস্য দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে তারা নির্ভয়ে বলপ্রয়োগ করতে পারবেন এবং ৪৫ শতাংশ আংশিকভাবে এই মতের পক্ষে।
কমন কজ এবং লোকনিতি-সিএসডিএস জানায়, এই গবেষণার জন্য ১৭টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিভিন্ন থানার ৮,২৭৬ জন পুলিশ সদস্যের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল। এদের মধ্যে কনস্টেবল থেকে শুরু করে আইপিএস কর্মকর্তা পর্যন্ত সকল স্তরের সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
রিপোর্টটি আরও বলছে, নির্যাতনের শিকার বেশিরভাগই দরিদ্র ও প্রান্তিক সম্প্রদায়ের মানুষ। বিশেষত, মুসলমান, দলিত, আদিবাসী, অশিক্ষিত ব্যক্তি এবং বস্তির বাসিন্দাদের উপর পুলিশি নির্যাতনের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ১৮ শতাংশ পুলিশ সদস্য বিশ্বাস করেন যে মুসলমানরা "স্বাভাবিকভাবে অপরাধ প্রবণ"।
প্রাক্তন আইপিএস কর্মকর্তা প্রকাশ সিং প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, পুলিশের হিংসাত্মক আচরণ নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও এটা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বোঝা প্রয়োজন। অপরদিকে, বিশিষ্ট আইনজীবী বৃন্দা গ্রোভার বলেন, নির্যাতনের অপরাধের জন্য রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করা উচিত এবং পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ৩০ শতাংশ পুলিশ সদস্য বিশ্বাস করেন যে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে 'থার্ড-ডিগ্রি' পদ্ধতি প্রয়োগ করা ন্যায়সঙ্গত। এছাড়া, পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু সম্পর্কিত তথ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্যও নিয়ে আসা হয়েছে, যা প্রশাসনিক দুর্বলতার প্রমাণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।















