আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাঘব চাড্ডাকে রাজ্যসভায় উপনেতার পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। তার পরিবর্তে সেই পদে আনা হয়েছে অশোক মিত্তলকে। তারপর থেকেই চর্চা একাধিক। জল্পনা, তাহলে কি কেজরির সঙ্গে ক্রমেই বাড়ছে দূরত্ব? চাড্ডা বিজেপির পথে হাঁটছেন কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন। রাঘব চাড্ডা ইতিমধ্যেই এই গোটা বিষয়ে একটি ভিডিও করে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারপরেই নজরে ছিল, চাড্ডার পালটা কী বলছে আপ?
বৃহস্পতিবারে চুপ থাকলেও শুক্রবার নিজের এক্স-এ একটি ভিডিও পোস্ট করেন রাঘব। সেখানে একটি প্রশ্ন করেন তিনি। ‘সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়ে সংসদে আলোচনা কি অপরাধ? ভিডিওর ক্যাপশনে লেখেন, ‘চুপ করানো হয়েছে। কিন্তু আমি এখনও হেরে যাইনি। ‘আম আদমি’কে আমার খোলা চিঠি’।
ভিডিওটির উত্তরেই ভরদ্বাজের পাল্টা ভিডিও আসে সমাজমাধ্যমে। চাড্ডাকে তিনি প্রশ্ন করেন, রাজ্যের বড় বড় সমস্যাগুলো সংসদ ভবনে তুলে আনতে এত ভয় করে কেন তাঁর। সংসদ ভবনে দাঁড়িয়ে ‘শিঙাড়া’ র মতো আপাত সহজ আলোচনা বন্ধ করে কাজের কথা বলার পরামর্শও সেই ভিডিওতে তিনি দেন।
তাঁর কথায়, ‘রাঘব ভাই, আপনার ভিডিওটা দেখলাম। আমরা সকলেই অরবিন্দ কেজরিওয়ালজির সৈন্য। আমরা একটাই বিষয় শিখেছি, ভীত আর মৃতের মধ্যে তফাৎ নেই। সরকারের চোখে চোখ রেখে আমাদের কাজ শুধু সাধারণের কথা বলা, তাঁদের সমস্যার কথা তুলে ধরা’। তিনি আরও বলেন, গত কয়েকদিন ধরে সরকারকে যিনিই প্রশ্ন করেছেন তাঁকেই শত্রু বলে দেগে দেওয়া হয়েছে। সাধারণের কথা বললেই দেশদ্রোহী বলা হয়েছে। তারপরেও তাঁরা প্রশ্ন করছেন। সেখানে দাঁড়িয়ে, ভয় পেয়ে, শিঙাড়া নিয়ে আলোচনা করে ‘সফট পিআর’ করার মানে হয় না।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘সরকার স্বৈরাচারীর মতো আচরণ করছে। এমনকী মানুষকে টুইটার, ফেসবুক, ইউটিউবসহ সমস্ত সমাজমাধ্যম থেকে বহিষ্কার করছে। এফআইআর করা হচ্ছে। কিন্তু কোনও লাভ হচ্ছে না। বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে রোজ। সেখানে দাঁড়িয়ে এই সফট পিআর করা কথাগুলো নিয়ে সরকার মাথা ঘামায় না। সংসদ ভবনে ছোট দলেরা খুবই কম সময় পায় নিজের বক্তব্য রাখার জন্য। সেইটুকু সময় পুরোটাই দেশের বড় বড় সমস্যা নিয়ে আলোচনা করাটা জরুরি’।
চাড্ডাকে তিনি খোলাখুলিভাবে বলেন, ‘গোটা দেশ জুড়ে আমরা দেখতে পাচ্ছি, ভোটের আগে মানুষের নাম বাদ যাচ্ছে। আর নকল ভোটার তৈরি করা হচ্ছে। সরকার কতখানি দুর্নীতিবাজ তা তো স্পষ্টই হচ্ছে। কীভাবে জোচ্চুরি করে ভোটে জিততে হয় সেটা এদের থেকে শেখা উচিৎ। গত কয়েক মাসে আমি একবারও দেখলাম না আপনাকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে। বিজেপিকে কোনও প্রশ্ন করেননি। ভয় পেলে তো আর রাজনীতি করা যায় না, তাই না? আপনি পাঞ্জাবের প্রতিনিধি, পাঞ্জাবের সমস্যার কথা বলবেন। কিন্তু এভাবে ভয় পেলে কীভাবে চলবে বলুন? গুজরাতে ১৬০ জন দলীয়কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হল, আপনি কিছুইই বললেন না সে বিষয়ে। কতজন নেতা জেলে, সে বিষয়ে আপনি চুপ। এমনকী যখন কেজরিওয়ালজিকে গ্রেপ্তার করা হল, আমরা সকলেই প্রতিবাদ করলাম, আপনি কী করলেন? দেশের বাইরে পালালেন, লুকিয়ে থাকলেন’।
লম্বা এই ভিডিওতে তিনি আরও জানান যে, তাঁর মতে দেশের বড় সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার সাহস রাখতে হবে। প্রশ্ন করার সময়ে বিজেপির চোখে চোখ রাখতে হবে। তিনি রাঘবকে দোষারোপ করে বলনে, ‘আপনি তো গত কয়েক বছর ধরে শুধু ভয়ই পেয়ে এসেছেন ভাই। একটু শিঙাড়া ছেড়ে দেশের আসল সমস্যাগুলোকে নিয়েও মুখ খুলুন সংসদ ভবনে!’
&t=1s
















