আজকাল ওয়েবডেস্ক: শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত ডিজেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়াল রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি। লিটারপ্রতি ২৮.২২ টাকা দাম বেড়েছে। এখন থেকে শিল্পসংস্থাগুলিকে এক লিটার ডিজেল কিনতে হবে ১৩৭.৮১ টাকায়। অর্থাৎ, পাইকারি বাজারে ডিজেলের দাম বাড়ল প্রায় ২৫ শতাংশ। 

জানা গিয়েছে, বুধবার থেকেই ইন্ডিয়ান অয়েল ও ভারত পেট্রোলিয়ামের মতো সংস্থাগুলি এই নতুন দাম কার্যকর করেছে।

তেল সংস্থাগুলির অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, এই বর্ধিত দাম মূলত বড় বাণিজ্যিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য প্রযোজ্য। মধ্য এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ডিজেলের পাশাপাশি ফার্নেস অয়েলের দামও লিটারপ্রতি ২৩.৭৭ টাকা বেড়েছে।

 জানা গিয়েছে, শিল্পমহলকে আশ্বস্ত করে তেল সংস্থাগুলি জানিয়েছে, দাম বাড়লেও জোগানে কোনও ঘাটতি হবে না। স্বস্তির খবর সাধারণ মানুষের জন্য- সাধারণ পেট্রোল পাম্পে ডিজেলের দামে কোনও বদল আনা হয়নি। ফলে বাস বা ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকদের বাড়তি টাকা গুনতে হবে না। 

প্রসঙ্গত, গত দু’সপ্তাহের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার পাইকারি ডিজেলের দাম বাড়ল। এর আগে ২০ মার্চ দিল্লিতে এই ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি প্রায় ২২ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।

একই সঙ্গে ‘প্রিমিয়াম’ পেট্রোলের দামও লিটারে ২ টাকা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এখন ব্যারেল প্রতি ১০৮.৪০ ডলার। দেশের বাজারে তেলের জোগান ঠিক রাখতে ডিজেল ও বিমান জ্বালানি রপ্তানির ওপর বাড়তি কর বসিয়েছে কেন্দ্র। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। পাশাপাশি শোধনাগারগুলিও পুরোদমে কাজ করছে। এখনও পর্যন্ত সাধারণের জন্য খুচরো বাজারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম অপরিবর্তিতই থাকছে।

এরই মধ্যে, তেল নিয়ে ভারতের বদলে চিনের পথে পাড়ি দিল ইরানের একটি 'বিতর্কিত' ট্যাঙ্কার। বিশ্ব রাজনীতির জটিল মারপ্যাঁচে এই ঘটনায় রীতিমত চাঞ্চল্য। ভারত অভিমুখী ওই জাহাজটি হঠাৎ গতিপথ পরিবর্তন করায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।

‘পিং শুন’ নামের এই জাহাজটি নিয়ে দড়িটানাটানি নতুন নয়। ২০২৫ সালে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নাম উঠেছিল এই ট্যাঙ্কারটির। 

জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা ‘কেপলার’-এর দাবি, দিনকয়েক আগেও জাহাজটি ভারতের গুজরাট উপকূলের ভাদিনারে আসার কথা ছিল। কিন্তু মাঝপথে হঠাৎই দক্ষিণ দিকে ঘুরে এখন তা চিনের দোংইং বন্দরের দিকে এগোচ্ছে। আরেকদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঝসমুদ্রে গতিপথ যে কোনও সময় আবার বদলে যেতে পারে।

কেন এই ভোলবদল? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন মেনে প্রয়োজনীয় নথিপত্র দিতে না পারার কারণেই হয়তো ভারতের বদলে চিনকে বেছে নিয়েছে জাহাজটি। আবার অনেকের মতে, তেলের দাম নিয়ে রফা না হওয়া কিংবা বিমা সংক্রান্ত সমস্যাও এর কারণ হতে পারে।

সম্প্রতি বিশ্ববাজারে তেলের দাম আয়ত্তে আনতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি তেল বিক্রিতে কিছুটা ছাড় দিয়েছিলেন। সেই সুযোগেই ইরানের খার্গ দ্বীপ থেকে তেল নিয়ে রওনা দিয়েছিল এই জাহাজটি।

ভারতের জন্য এই ঘটনা যথেষ্ট উদ্বেগের। কারণ, দেশের জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে সাম্প্রতিক অশান্তির জেরে ভারতের তেল ও গ্যাসের জোগানে বারবার কাঁটা হয়ে দাঁড়াচ্ছে ইরান-সংঘাত। এই পরিস্থিতিতে একটি তেলবাহী জাহাজের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ভারতের শক্তিক্ষেত্রে নতুন চাপের ইঙ্গিত বলেই মনে করা হচ্ছে।