আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে মাওবাদী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ তথা বর্ষীয়ান সিপিআই (মাওবাদী) নেতা প্রশান্ত বসু ওরফে কিষাণ দার জীবনাবসান হয়েছে। শুক্রবার সকালে রাঁচির রাজেন্দ্র ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসে (রিমস) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছরেরও বেশি। ঝাড়খণ্ডের সরাইকেলা জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় আজ ভোরে তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। জেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভোরবেলা থেকেই তিনি তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সকাল ৬টা নাগাদ তাঁকে রিমস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে সকাল ১০টা নাগাদ তাঁর মৃত্যু ঘোষণা করা হয়।
নিষিদ্ধ ঘোষিত এই সংগঠনের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন এই বাঙালি মাওবাদী। বর্তমানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নম্বলা কেশব রাওয়ের ঠিক পরেই তাঁর গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি ও পলিটব্যুরোর সদস্য হওয়ার পাশাপাশি তিনি দীর্ঘ সময় পূর্ব আঞ্চলিক ব্যুরোর সম্পাদকের দায়িত্ব সামলেছেন। মাওবাদী শিবিরে তিনি ‘মনীশ’ বা ‘বুদ্ধ’ নামেও সমান পরিচিত ছিলেন। কেবল রণকৌশল নির্ধারণ নয়, দলের তাত্ত্বিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, বিহার, ওড়িশা, ছত্তিশগড়, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্র— এই সাতটি রাজ্যে মাওবাদী আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি বহুলাংশে তাঁর মস্তিষ্কপ্রসূত ছিল বলেই মনে করেন গোয়েন্দারা।
২০২১ সালের ১২ নভেম্বর সরাইকেলা-খাসাওয়ান জেলার কান্দ্রা টোল ব্রিজের কাছ থেকে প্রশান্ত বসু ও তাঁর স্ত্রী শীলা মারান্ডিকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। সেই সময় তাঁর মাথার ওপর ১ কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন রাজ্যে অন্তত ২০০টিরও বেশি মাওবাদী নাশকতামূলক ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যোগ ছিল তাঁর। মূলত পশ্চিমবঙ্গের ভূমিপুত্র হয়েও সারা ভারতের বাম চরমপন্থী আন্দোলনের এক প্রভাবশালী মুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। কিষাণ দার মৃত্যুতে একদিকে যেমন একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান হল, তেমনি মাওবাদী সংগঠনের অভ্যন্তরীণ রণকৌশল ও তাত্ত্বিক কাঠামোতে বড়সড় শূন্যতা তৈরি হল বলে মনে করা হচ্ছে। হাই-প্রোফাইল এই বন্দির মৃত্যুর স্পর্শকাতরতা বিচার করে ইতিমধ্যেই একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তসহ সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া কড়া নজরদারিতে সম্পন্ন করা হচ্ছে।














