আজকাল ওয়েবডেস্ক: নির্বাচন চলাকালীন সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাল জাতীয় কংগ্রেস। শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে দলের বর্ষীয়ান নেতা জয়রাম রমেশ অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলিতে ভোট চলাকালীন এই পদক্ষেপ আসলে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনেরই নামান্তর। তাঁর মতে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনগুলোতে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই কেন্দ্র তড়িঘড়ি এই অধিবেশন ডেকেছে।

বিশেষ করে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনীয়ম’ বা মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে কেন্দ্রের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রমেশ। তিনি জানান, গত দু’বছর ধরে সরকার এই বিষয়ে কোনও সক্রিয়তা দেখায়নি, কিন্তু এখন ভোটের মরসুমে ‘ডাবল ক্রেডিট’ নেওয়ার লোভে বিষয়টিকে ফের সামনে আনা হয়েছে। কংগ্রেসের দাবি, সরকার যদি সত্যিই গণতান্ত্রিক রীতিনীতিতে বিশ্বাস করত, তবে ২৯ এপ্রিল ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকতে পারত। কিন্তু বিরোধীদের কোনওরকম তোয়াক্কা না করেই কেন্দ্র একতরফাভাবে এই অধিবেশন ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি সরব হন।

তবে এই বিতর্কের মূলে রয়েছে লোকসভার আসন বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন নিয়ে ঘনিয়ে ওঠা আশঙ্কা। সূত্রের খবর, লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮০০-র বেশি করার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। এই প্রসঙ্গে জয়রাম রমেশ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন সংখ্যা বাড়লে উত্তরপ্রদেশের মতো বড় রাজ্যগুলি লাভবান হলেও দক্ষিণ ভারত, উত্তর-পূর্ব এবং পশ্চিম ভারতের রাজ্যগুলি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কেরলের মতো রাজ্যগুলিতে আসন বৃদ্ধি হবে নামমাত্র, যা ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পক্ষে অত্যন্ত ‘বিপজ্জনক’ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ইতিমধ্যেই ১৬ এপ্রিল থেকে সংসদের এই সংক্ষিপ্ত অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে মহিলা সংরক্ষণ এবং আসন বিন্যাস সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ হতে পারে বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী শিবিরেও তৎপরতা তুঙ্গে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং রাহুল গান্ধী আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অন্যান্য বিরোধী দলগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসে যৌথ কৌশল নির্ধারণ করবেন। সংসদের ভেতরেও উত্তাপ ছড়িয়েছে; একদিকে জেপি নাড্ডা যখন অধিবেশনের সময় নির্ধারণকে সরকারের অধিকার বলে দাবি করছেন, অন্যদিকে খাড়গে অভিযোগ তুলছেন যে সরকার বিতর্কিত বিলগুলি ‘বুলডোজ’ করে পাশ করিয়ে নিতে চাইছে। সব মিলিয়ে, রাজ্য রাজনীতির ভোটের লড়াই এখন দিল্লির সংসদীয় রাজনীতির অলিন্দে এক নতুন সংঘাতের রূপ নিয়েছে।