আজকাল ওয়েবডেস্ক: জামে মসজিদকে কেন্দ্র করে ছড়াল উত্তেজনা। পুলিশ পরিস্থিতি সামলাতে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্য গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ। তাতেই মৃত্যু হয় চারজনের। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে স্কুল, কলেজ। ইন্টারনেট পরিষেবাও বিক্ষিপ্তভাবে বন্ধ রয়েছে। ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের সম্ভলের।
ঠিক কী ঘটেছিল? জানা গিয়েছে, সম্ভলের মুঘল আমলের শাহী জামে মসজিদে সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছিল রবিবার। সমীক্ষা চলাকালীন যাতে অশান্তি না ছড়ায় তার জন্য মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশবাহিনী। কিন্তু সমীক্ষকেরা এলাকায় পৌঁছতেই পরিবেশ অশান্ত হয়ে যায়। রবিবার ভোর ছ'টা নাগাদ এলাকায় পৌঁছন তাঁরা। এর মধ্যে ছিলেন, জেলাশাসক রাজেন্দ্র পানসিয়া, পুলিশ সুপার কৃষ্ণ বিষ্ণোই, মহাকুমাশাসক বন্দনা মিশ্রা, সার্কেল অফিসার অনুজ চৌধুরী। হঠাৎ ওই মসজিদে সমীক্ষার প্রয়োজন পড়ল কেন? জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে একটি দাবি ওঠে, সম্ভলের জামে মসজিদ আসলে এক হিন্দু মন্দির ছিল। নিম্ন আদালতে মামলা করা হয় ওই মসজিদের তলায় হরিনাথ মন্দির ছিল। সেটাকে ভেঙে মসজিদ বানানো হয়েছে এই মর্মে অভিযোগ জানিয়ে।
১৯ নভেম্বর এই আবেদনের ভিত্তিতে আদালত থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়, ওই মসজিদ এলাকা খতিয়ে দেখার। সেইমতো রবিবার সকালে সমীক্ষকেরা চলে যান এলাকায়। সে খবর টের পেতেই চলে আসে এলাকাবাসীদের একটা অংশ। মসজিদের বাইরে থেকে স্লোগান দেওয়া হতে থাকে। এরপর হঠাৎই পুলিশকে লক্ষ্য করে ইঁট ছোড়া শুরু হয়। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করতে শুরু করে, হয় কাঁদানে গ্যাস ছোড়া।
মারামারিতে প্রাণ হারিয়েছেন চারজন স্থানীয় বাসিন্দা। এই হিংসার ঘটনায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ২৫জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এলাকাজুড়ে জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। এক পক্ষের দাবি, এটি তাদের উপাসনাস্থল। অন্যপক্ষের দাবি, মোগল সম্রাট বাবরের আমলে এটি ভেঙে মসজিদ বানানো হয়েছে। এই মামলার আবেদনকারী তথা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বিষ্ণু শঙ্কর জৈন, আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়াকে এই জায়গাটি নিজেদের দায়িত্বে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
















