আজকাল ওয়েবডেস্ক: তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ফের নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এল ‘সনাতন ধর্ম’ প্রসঙ্গ। এবারও বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন উদয়নিধি স্ট্যালিন। তামিলনাড়ু বিধানসভার অধিবেশনে তিনি ফের “সনাতন নির্মূলের” পক্ষে মন্তব্য করতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে অধিবেশনে উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রী বিজয় এই মন্তব্যের সময় নীরব থাকেন।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর নতুন অধিবেশনের প্রথম দিনেই বিরোধী দলনেতা উদয়নিধি স্ট্যালিন বলেন, “সনাতন, যা মানুষকে বিভক্ত করেছে, তা নির্মূল করা উচিত।” তাঁর এই বক্তব্য আগের বিতর্কিত মন্তব্যেরই পুনরাবৃত্তি বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এর আগে তিনি সনাতন ধর্মকে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন এবং তা “নির্মূল” করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই মন্তব্যকে ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও দায়ের হয়।
তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। কারণ, ভারতীয় সংবিধানের ১৯৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিধানসভায় বক্তব্য রাখার ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিরা বিশেষ সাংবিধানিক সুরক্ষা পান। বিধানসভার ভিতরে দেওয়া মন্তব্যের জন্য তাঁদের বিরুদ্ধে সরাসরি আদালতে মামলা করা কঠিন। ফলে উদয়নিধির বিরুদ্ধে এবার তৎক্ষণাৎ আইনি পদক্ষেপ হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই বিষয়টি তুলে ধরে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র অমিত মালব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া আক্রমণ শানান। তিনি দাবি করেন, আগেরবার প্রকাশ্যে সনাতন বিরোধী মন্তব্য করে ডিএমকে রাজনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছিল বলেই এবার উদয়নিধি বিধানসভাকে “ঢাল” হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
অমিত মালব্য লেখেন, “গতবার উদয়নিধি স্ট্যালিন যখন সনাতন ধর্ম নির্মূলের কথা বলেছিলেন, আদালত সেটিকে ঘৃণামূলক ভাষণ বলে উল্লেখ করেছিল এবং তামিলনাড়ুর মানুষ তাঁদের বিরোধী আসনে পাঠিয়েছিল। এবার তিনি বিধানসভার বিশেষ সুরক্ষার আড়ালে একই মন্তব্য করলেন। লক্ষ লক্ষ মানুষের বিশ্বাসকে আঘাত করা রাজনৈতিক সাহস নয়, বরং অহংকার।”

অন্যদিকে বিজেপি নেতা পি সেলভমও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “সনাতন ধর্ম নয়, এই ধরনের বক্তব্যের কারণেই ডিএমকে তামিলনাড়ুতে রাজনৈতিকভাবে মুছে গিয়েছে। সনাতন ধর্মের মূল্যবোধ শেষ মানুষ পর্যন্ত বেঁচে থাকবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সনাতন ধর্ম নিয়ে উদয়নিধির মন্তব্য দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে আবারও ধর্ম ও মতাদর্শের প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের নীরবতা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া এড়িয়ে গেলেন, নাকি রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতেই চুপ থাকলেন—তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সব মিলিয়ে বলা যায় তামিলনাড়ুর নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু হতেই ‘সনাতন’ বিতর্ক আবার রাজ্যের রাজনীতিকে উত্তপ্ত করে তুলেছে।















