সংবাদ সংস্থা মুম্বই: শাহরুখ-সলমন-আমির-অক্ষয়দের বহু ছবির গানের পাশাপাশি তাঁদের নাচও দারুণ জনপ্রিয় হয়েছে দর্শকের মধ্যে। কোনও কোনও নাচের ভঙ্গি এতটাই জনপ্রিয় যে তা ছাপিয়ে গিয়েছে ছবির ওই গানকেও। তাই বলিপাড়ায় নৃত্য-নির্দেশকদের কদর খুব। বলিপাড়ায় বেশিরভাগ নৃত্য নির্দেশক-ই হলেন পুরুষ। আরে পুরুষদের মধ্যে যে দুজন মহিলা নৃত্য-নির্দেশক দাপিয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন, তাঁরা হলেন প্রয়াত সরোজ খান এবং ফারহা খান। তবে শোনা যায়, সরোজ খানের ব্যবহার অত্যন্ত খারাপ ছিল। স্বভাবেও বেশ কর্কশ ছিলেন। এককথায় মেজাজটাও ছিল আগ্রাসী। পরিচালক-নৃত্য নির্দেশক ফারহা খানের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কেন তাঁদের স্বভাব এতটা কঠোর? সম্প্রতি সেইবিষয়ে মুখ খুললেন জনপ্রিয় নৃত্য নির্দেশক টেরেন্স লেউইস।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারের এ প্রসঙ্গে টেরেন্স বলেন, "যাঁরা বলেন সরোজ খান, ফারহা খানদের মুখের ভাষা খারাপ, কঠোর ব্যবহার, আগ্রাসী মেজাজ... তাঁদের এটাও ভাবতে হবে কেন সরোজ খান ওরকম ছিলেন? ফারহাও বা এমন কেন? আসলে, ইন্ডাস্ট্রির এই বিভাগ পুরুষেরা চিরকাল দমন করে এসেছেন। সেখানে একজন মহিলা হিসাবে টিকতে গেলে এবং নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে হলে আগ্রাসী না হয়ে উপায় নেই। ইন্ডাস্ট্রি ভীষণ নির্মম জায়গা। আর এই নির্মমতা ওঁদের মধ্যে নারীসত্ত্বটাকে মেরে ফেলেছে। তাঁদের শক্ত হতে হয়েছিল, পুরুষের মতো হয়ে উঠতে হয়েছিল এই ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকার জন্য।"
টেরেন্স আরও বলেন, "নিজের জোর বোঝাতে, ক্ষমতা বোঝাতে পুরুষদের থেকে উঁচু গলায় কথা বলতে হতো ওঁদের। আরও নির্মম হতে হতো। ঠিক সেটাই করেছেন তাঁরা। বাকি পুরুষদের মাঝখানে নিজেদের উপস্থিতি বোঝাতে, নির্দেশ মানতে গলা উঁচিয়ে কথা বলতেই হতো তাঁদের। করতেই হতো ওরকম কঠোর ব্যবহার। তাঁদের ক্রমাগত এটা প্রমাণ করতে হতো যে মহিলা বলে মোটেও হালকাভাবে নেওয়া যাবে না তাঁদের। এর ফলে...ওই যে বললাম তাদের ভেতরের নারীসত্ত্বাটা মারা গিয়েছিল। চারপাশের পরিস্থিতির জন্যেই। বিষয়টা দুঃখের তো বটেই। তাই সরোজ খান যখন কথা বলতেন, হাঁটতেন কিংবা ফারাহ যখন কথা বলেন, হাঁটেন...একেবারে মনে হয় কোনও একজন পুরুষ কথা বলছেন, হাঁটছেন। "
















