আজকাল ওয়েবডেস্ক: গলি থেকে রাজপথ। যশস্বী জয়েসওয়ালের ক্ষেত্রে এই প্রবাদটি প্রযোজ্য। এলেন, দেখলেন, জয় করলেন। ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রথমবার। কিন্তু শরীরীভাষা, হাবভাব দেখে কে বলবে! বুক চিতিয়ে ব্রিটিশ বোলারদের একের পর এক গোলাগুলির সামনা করলেন। ইংল্যান্ডে পা রেখেই শতরান। ১৪৪ বলে সম্পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি নেই। দু'বছর আগে টেস্ট অভিষেক হওয়ার পর থেকে দুই মহারথীর ছত্রছায়ায় বেড়ে উঠেছেন যশস্বী। ২০২৩ জুলাইয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অভিষেক। জীবনের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে শতরান করে ক্রিকেটমহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কিন্তু সেই দলে ছিলেন রোহিত-বিরাট। অনেক খোলা মনে খেলতে পেরেছেন।‌ এবার দুই মহাতারকার অবসরের পর, তরুণ দলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। কঠিন পরীক্ষা ছিল যশস্বীর। তাতে স্টার মার্কস পেয়ে উত্তীর্ণ হলেন ২৩ বছরের বাঁ হাতি ওপেনার। 

বছর তিনেক আগে তাঁকে কেউ চিনত না। সকালে ক্রিকেট খেলতেন, রাতে ফুচকা বিক্রি করতেন। থাকার ঠিকঠাক আস্তানাও ছিল না। সে এখন বিশ্বমঞ্চে দাপাচ্ছে। তিন ফরম্যাটেই সমান পারদর্শী। ভবিষ্যতের তারকা। ঝুলিতে টেস্ট অভিজ্ঞতা বলতে মাত্র ১৯টি ম্যাচ। তারমধ্যেই রয়েছে পাঁচটি শতরান এবং ১০টি অর্ধশতরান। সর্বোচ্চ অপরাজিত ২১৪ রান। গড় ৫২.৮৮। শুক্রবার টসে জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠান বেন স্টোকস। তাঁর যাবতীয় আশায় জল ঢেলে দেন যশস্বী। ওপেনিংয়ে কেএল রাহুলের সঙ্গে জুটি বেঁধে ৯১ রান যোগ করেন। তারপর জুটি বাঁধেন শুভমন গিলের সঙ্গে। কোনও লুজ শট নেই। বিচক্ষণ ইনিংস। সুযোগ পেলে তারই মধ্যে বল বাউন্ডারিতে পাঠান। হাঁকান একটি ছক্কাও। স্পিনের বিরুদ্ধে অনবদ্য। ক্লাস এবং টাইমিং অসাধারণ। অফসাইডে বরাবর ভাল। 

সেঞ্চুরির মুখে হাতের ব্যথায় কাতরাতে থাকেন। দেখে মনে হয় ক্র্যাম্প। বারবার মাঠে ছুটে আসতে হয় ফিজিওকে। কিন্তু হাল ছাড়েননি। দাঁতে দাঁত চেপে মাটি আঁকড়ে পড়ে থাকেন। পরপর দুটো চোখ ধাঁধানো শটে শতরানের দোরগোড়ায় পৌঁছে যান। পরের বলেই এক রান। চায়ের বিরতি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়নি। তার আগেই তিন অক্ষরের মাইলস্টোনে পৌঁছে যান যশস্বী। ইনিংসে ছিল ১৪টি চার এবং একটি ছয়। উইকেটের অন্য প্রান্তে অনবদ্য শুভমন গিল। ৭৪ বলে ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন। চায়ের বিরতিতে ২ উইকেটে ভারতের রান ২১৫। দ্বিতীয় সেশনে কোনও উইকেট হারায়নি টিম ইন্ডিয়া। যোগ করে ১২৩ রান। ভারত-ইংল্যান্ড প্রথম টেস্টের প্রথম দিনের ফার্স্ট সেশনের সিংহভাগ ভারতের হলেও, শেষদিকে ভাগ বসায় ইংল্যান্ড। জোড়া উইকেট তুলে নেয়। আউট হন কেএল রাহুল এবং সাই সুদর্শন। কিন্তু দ্বিতীয় সেশন পুরোপুরি ভারতের।