আজকাল ওয়েবডেস্ক: আরও একটা বড় মঞ্চ। আরও একবার এই নিষ্ঠুর হল দিল্লি ক্যাপিটালসের জন্য। আরও একটা ফাইনাল, আরও একবার হার্টব্রেক দিল্লির জন্য।

পরপর চারবার উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগের ফাইনালে উঠেও ট্রফি ছুঁতে পারল না দিল্লি ক্যাপিটালস। মহিলাদের বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে হিরো হলেও এবার আর হিরো হতে পারলেন না জেমিমা।

মাথা নত করলেন বন্ধু স্মৃতির কাছে। জয়ের একদম কাছে গিয়েও শেষরক্ষা করতে পারল না দিল্লি ক্যাপিটালস। ভদোদরায় বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগের ফাইনালে স্মৃতি মান্ধানার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB) ছয় উইকেটে নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে নিজেদের টানা দ্বিতীয় বার খেতাব নিশ্চিত করল।

প্রথম ইনিংসের পর এক সময় স্বপ্ন দেখেছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। অধিনায়ক জেমিমা রড্রিগেজ খেলেন এক অনবদ্য অধিনায়কচিত ইনিংস। শেষের দিকে হেনরির আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ভর করে দিল্লি তোলে ২০৩ রান ৪ উইকেট হারিয়ে।

৩৭ বলে ৫৭ রান করে দলের ভিত গড়ে দেন রড্রিগেজ। তাঁকে দারুণভাবে সঙ্গ দেন লরা উলফার্ট (২৫ বলে অপরাজিত ৪৪) এবং লিজেল লি (৩০ বলে ৩৭)। শেষদিকে চিনেল হেনরি মাত্র ১৫ বলে ৩৫ রান করে দিল্লিকে জয়ের স্বপ্ন দেখান।

আরসিবি এদিন টসে জিতে বোলিং নিয়ে শুরুতে যথেষ্ট সংযত বোলিং করে প্রথম তিন ওভারে মাত্র ৯ রান দেয়। তবে লিজেল লি সায়ালি সতঘারেকে পরপর দু’বলে দুটি ছক্কা হাঁকাতেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।

পরে রড্রিগেজ-উলফার্টের ৭৬ রানের জুটি আরসিবি বোলিংকে কার্যত চাপে ফেলে দেয়। তবে যে ২০৩ রান পাহাড়সম মনে হচ্ছিল বাস্তবে তা হল না। রান তাড়া করতে নেমে আরসিবি ধাক্কা খায় প্রথমেই।

ফর্মে থাকা গ্রেস হ্যারিসকে বোল্ড করেন চিনেল হেনরি। কিন্তু এরপর কার্যত ঝড় তোলেন স্মৃতি মান্ধানা ও জর্জিয়া ভল। তাঁরা দুজনে একসঙ্গে ম্যাচের রাশ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেন।

একদিকে যেমন ভলও অনায়াসে বাউন্ডারি হাঁকাতে থাকেন, অন্যদিকে মান্ধানা তাঁর পরিচিত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে চার-ছয়ের ঝড় তোলেন। হেনরি, মারিজানে কাপ, স্নেহ রানা, নন্দিনী শর্মা কেউই রেহাই পাননি।

দু’জনেই দ্রুত অর্ধশতরান পূর্ণ করেন। ১০০ রানের জুটি গড়ে ম্যাচ প্রায় একপেশে করে দেন। ইনিংসের অর্ধেকেই আরসিবি পৌঁছে যায় ১০০ রানে। মান্ধানা অরেঞ্জ ক্যাপের দৌড়ে হারিয়ে দেন হরমনপ্রীত কৌরকেও।

১৫ ওভারে আরসিবির স্কোর দাঁড়ায় ১৬১। পরিসংখ্যান বলছে, উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে যে কোনও উইকেটে সর্বোচ্চ জুটির নজির। হঠাৎ করেই ম্যাচে ফেরে দিল্লি ক্যাপিটালস।

মিন্নু মানি ভলকে ফিরিয়ে ধাক্কা দেন। এরপর নন্দিনী শর্মা রিচা ঘোষকে আউট করতেই উত্তেজনা চরমে ওঠে। তখন আরসিবির দরকার ছিল ১২ বলে ২৪ রান। ক্রিজে তখনও স্মৃতি মান্ধানা।

কিন্তু চিনেল হেনরির এক বিধ্বংসী ডেলিভারিতে তাঁর স্টাম্প উড়ে যায়। মান্ধানাকে ফিরতে হয় প্যাভিলিয়নে। শেষ ওভারে দরকার ছিল ৬ বলে ১০ রান।

ক্রিজে ছিলেন রাধা যাদব ও নাদিন ডি ক্লার্ক। নায়ক হয়ে ওঠেন রাধা যাদবই। টানা দুটি চার মেরে ম্যাচ শেষ করে দেন তিনি।