আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইতিহাসের পাতায় মহম্মদ সালাহরা। অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মিশর। শুক্রবার ভারতীয় সময় মধ্যরাতে পেনাল্টিতে ৫-৩ গোলে অস্ট্রেলিয়াকে হারায় মিশর। নাটকীয় নব্বই মিনিটের শেষে ১-১ গোলে শেষ হয় অস্ট্রেলিয়া এবং মিশর ম্যাচ। খেলা গড়ায় এক্সট্রা টাইমে। ম্যাচের অতিরিক্ত সময় অস্ট্রেলিয়ার গোলকিপার প্যাট্রিক বিচের দুর্দান্ত সেভে ম্যাচে টিকে থাকে অজিরা। অতিরিক্ত সময় দুই দলের কেউই ওপেন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ক্লান্তির চাপ স্পষ্ট ছিল। তবে তারমধ্যেও অতিরিক্ত সময় অগ্রাধিকার ছিল মিশরের।কিন্তু গোল আসেনি। ১২০ মিনিটের শেষেও স্কোরলাইন ১-১। যার ফলে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে বাজিমাত। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম নকআউট ম্যাচ জেতে মিশর। তাই জয়ের পর মাঠেই উৎসবে মাতেন সালাহরা। চলে বেশ কিছুক্ষণ।
চলতি বিশ্বকাপে প্রথম জয় পেয়েছিল মিশর। এর আগে বিশ্বমঞ্চে কোনওদিন জেতেনি। এবার গড়ল আরও একটি ইতিহাস। শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে মিশর। বিশ্বফুটবলে প্রথমবার হতে পারে সালাহ-মেসি লড়াই। ম্যাচ জেতার পর সালাহ বলেন, 'আমরা ইতিহাস সৃষ্টি করেছি। অবশ্যই খুব ভাল লাগছে। বিশ্বফুটবলের সেরা মঞ্চে খেলছি। আমরা প্রতি মুহূর্ত খেলাটা উপভোগ করছি। ইতিহাস সৃষ্টি করতে পেরে খুশি।' মেসি প্রসঙ্গ করতেই এগিয়ে যান সালাহ। কোনও উত্তর দেননি। শুধু বলেন, 'আর্জেন্টিনা একটু পরেই নামবে। দেখা যায় কী হয়।'
ডালাসে রাউন্ড অফ ৩২ এর শুরুটা ভাল করেছিল অস্ট্রেলিয়া। প্রথমদিকে গোল লক্ষ্য করে একাধিক শট নেয়। কিন্তু খেলার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচে আধিপত্য বাড়ে সালাহদের। খেলার গতির বিরুদ্ধে গিয়ে এগিয়ে যায় মিশর। ম্যাচের ৬০ মিনিটের মাথায় সমতা ফেরায় অস্ট্রেলিয়া। বিরতিতে এক গোলে পিছিয়ে ছিল অজিরা। ম্যাচের ৬০ মিনিটে স্কোরলাইন ১-১ হয়। প্রথমার্ধে এগিয়ে যায় মিশর। ১৩ মিনিটে ইমাম আশহাউডের গোলে এগিয়ে যায় মিশর। দ্বিতীয়ার্ধে সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচে সমতা ফেরায় অস্ট্রেলিয়া। আত্মঘাতী গোল করেন মিশরের মহম্মদ হানি। বিশ্বকাপের এক সংস্করণে সবচেয়ে বেশি আত্মঘাতী গোল করার নজির গড়লেন হানি। এদিন ইতিহাসের সন্ধানে মাঠে নামে অস্ট্রেলিয়া এবং মিশর। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম নকআউট রাউন্ডের গণ্ডি পার করার হাতছানি ছিল দুই দলের সামনে। শেষ হাসি হাসেন সালাহ।















