আজকাল ওয়েবডেস্ক: আর্লিং হালান্ডের নাম ঘরে ঘরে ঘুরছে। গত কয়েক বছরে প্রিমিয়ার লিগ এবং বুন্দেশলিগায় বিশ্বমঞ্চে প্রচারের আলোয় আসেন। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নরওয়ের সাড়ে পাঁচ ফুটের স্ট্রাইকারের জোড়া গোলের পর তাঁকে নিয়ে চর্চা বেড়েছে। এই নিয়ে চতুর্থবার বিশ্বকাপে অংশ নেয় নরওয়ে। ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার। বিশ্বকাপের আগের ছয় সংস্করণে যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি নিশীথ সূর্যের দেশ। ২১ জুলাই ২৬ বছরে পা রাখবেন হালান্ড। শেষবার যখন বিশ্বকাপ খেলেছিল নরওয়ে, তখনও জন্ম হয়নি তারকা ফুটবলারের। আজ তিনি নরওয়ের সেরা ফুটবলার। 

ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে হালান্ডের একটি যোগসূত্র রয়েছে। দশ বছর আগে, ভারতের জুনিয়র দলকে ঘিরে প্রত্যাশার পারদ চড়ছিল। একবছর দূরে ছিল অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ। ভারতের আয়োজন করার কথা ছিল। বয়সভিত্তিক হলেও প্রথমবার কোনও বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার কথা ছিল ভারতের। তার আগে বিভিন্ন এক্সপোজার সফরে পাঠানো হয়েছিল ভারতের অনূর্ধ্ব-১৭ দলকে। অনূর্ধ্ব-১৭ নরওয়ে এবং ব্রাজিল দলের বিরুদ্ধে খেলে ভারতের জুনিয়ররা। সেই দলে ছিল আর্লিং হালান্ড এবং ভিনসিয়াস জুনিয়র। কাকতালীয়ভাবে, সোমবার রাতে মুখোমুখি হয় এই দুই তারকা। ২০১৬ সালে এক্সপোজার সফরে নরওয়ের বিরুদ্ধে যে ম্যাচ খেলেছিল ভারত, সেই দলে ছিলেন হালান্ড। ২০১৬ সালের ২৯ জুনের সেই ম্যাচ রিপোর্ট এখনও এআইএফএফে রয়েছে। 

সেই ম্যাচ রিপোর্টে বলা হয়, 'ম্যাচের ৫৪ মিনিটে দশজনে হয়ে যায় ভারতীয় দল। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড, অর্থাৎ লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়ে সঞ্জীব। ৫৭ মিনিটে আর্লিং ব্রাউট হালান্ডের গোলে এগিয়ে যায় নরওয়ে। ৮০ মিনিটে এরিক বথিয়েমের গোলে ব্যবধানে বাড়ায়। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর, ৫৪ মিনিটে লালকার্ড দেখে সঞ্জীব। দশজনে হয়ে যায় ভারত। ব্যবধান কমাতে পারেনি ভারত। ২-০ গোলে জেতে নরওয়ে।' হালান্ড তখনই উঠতি তারকা ছিলেন। সুরেশ ওয়াংজ্যাম সেই দলের সদস্য ছিলেন। ২০২২ সালে তাঁর হালান্ডকে ট্যাকেল করার ফটো ভাইরাল হয়ে যায়। সেই ফটোর নিচে সুরেশ লেখেন, 'বলটা আমি জিতেছিলাম।'

পরে সুরেশ আরও বলেন, 'আমরা জানতাম ম্যাচটা সহজ হবে না। ওদের বিরুদ্ধে নামার আগে আমাদের প্ল্যান করতে হয়েছিল। আমরা জানতাম ওদের একজন ভাল প্লেয়ার আছে। ওকে কে মার্ক করবে সেটা ঠিক করা আমাদের জন্য কঠিন ছিল না। লক্ষ্য ছিল ওর ওপর চাপ তৈরি করা। যাতে বল সামনে না দিতে পারে।' অনূর্ধ্ব-১৭ ভারতীয় দলের অনেকেই ভারতের সিনিয়র দলে সুযোগ পেয়েছে। রমরমিয়ে আইএসএলও খেলছে। অন্যদিকে, বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম সেরা ফুটবলার হয়ে ওঠেন হালান্ড।