আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় তারকা বিরাট কোহলি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অনেক আগেই অবসর নিয়ে ফেলেছেন। এমনটাই মতামত দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন তারকা পেসার অ্যালান ডোনাল্ডের।

গত বছরের মে মাসে লাল বলের ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে দিয়েছিলেন কোহলি। তার আগে অস্ট্রেলিয়ায় বর্ডার–গাভাসকর ট্রফিতেই শেষবার টেস্ট খেলতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে।

বিজিটির পর গত বছরের জানুয়ারি মাসে রেলওয়েজের বিরুদ্ধে দিল্লির হয়ে একটি রঞ্জি ট্রফি ম্যাচ খেললেও আর জাতীয় দলে ফেরেননি কোহলি।

ডোনাল্ডের মতে, কোহলির খেলার প্রতি নিষ্ঠা ও অনুশীলনের মানসিকতাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৬০০-র বেশি উইকেট নেওয়া মাত্র চার জন দক্ষিণ আফ্রিকান বোলারের একজন হলেন ডোনাল্ড।

কোহলি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ওই মতো খিদে এবং শৃঙ্খলা খুব কম ক্রিকেটারের মধ্যেই দেখা যায়। বলেন, ‘বিরাটের মতো খিদে আমি আর কোনও ক্রিকেটারের মধ্যে দেখিনি। ওর প্রতি আমার অসম্ভব শ্রদ্ধা রয়েছে। ড্রেসিংরুমে প্রায়ই আমরা চ্যাম্পিয়ন ট্রেনার নিয়ে আলোচনা করি। বিরাটের মতো কঠোর অনুশীলন আর কেউ করে না। ও একেবারে একটা মেশিনের মতো।’

প্রোটিয়া কিংবদন্তি আরও জানান, টেস্ট ক্রিকেটে কোহলির অভাব তিনি নিজেও অনুভব করেন। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই টেস্টের মঞ্চে ওকে মিস করি। আমার মনে হয়, ও খুব তাড়াতাড়ি অবসর নিয়েছে। তবে কোনও সন্দেহ নেই, সাদা বলের ক্রিকেটে আমরা খুব শিগগিরই ওকে আবার দেখব, বিশেষ করে বিশ্বকাপে।’

২০২৪ সালে ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেন কোহলি। প্রায় ১০ মাস পর ওডিআই ক্রিকেট থেকেও সরে দাঁড়ান।

বর্তমানে তিনি কেবলমাত্র ভারতের ওডিআই দলের অংশ এবং নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে চলতি তিন ম্যাচের সিরিজে খেলছেন। উল্লেখ্য, চলতি মরশুমে প্রায় ১৫ বছর পর বিজয় হাজারে ট্রফিতে প্রত্যাবর্তন করেন বিরাট কোহলি।

দিল্লির হয়ে খেলতে নেমে অন্ধ্রের বিরুদ্ধে সফল ভাবে রান তাড়া করে ১০১ বলে দুরন্ত ১৩১ রান করেন তিনি। সেই ইনিংসে ছিল ১৪টি চার ও তিনটি ছয়। এই টুর্নামেন্টেই কোহলি নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেন।

মাত্র ৩৩০ ইনিংসে ১৬,০০০ লিস্ট এ রান করে দ্রুততম ব্যাটার হিসেবে সচিন তেণ্ডুলকরের রেকর্ড ভেঙে দেন তিনি। এরপর গুজরাটের বিরুদ্ধে করেন ঝরঝরে ৭৭ রান, যা তাঁর ধারাবাহিকতারই প্রমাণ। দীর্ঘ বিরতির পরও ঘরোয়া ক্রিকেটে কোহলির এই পারফরম্যান্স দিল্লির ব্যাটিংয়ের মূল ভরসা হয়ে ওঠে।