আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের মহিলা কুস্তিগীর বিনেশ ফোগাত এবং ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র আকার নিয়েছে। নিজের অবস্থান থেকে সরে আসছেন না ফোগাত।
শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেন বিনেশ ফোগাত। সেখানে তিনি লেখেন, ''জীবন যেন গভীর এক ঘূর্ণাবর্তে আটকে আছে। পৃথিবী আমার চরিত্রে দোষ খুঁজে চলেছে। কিন্তু জীবন সবসময় মাথা উঁচু করে চলতে শিখিয়েছে। কোনও তলোয়ারের ক্ষমতা নেই, যা এই মাথাকে নত করতে পারে।'' তাঁর এই বার্তা কুস্তি ফেডারেশনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
কুস্তি ফেডারেশনের অভিযোগ, অবসর ভেঙে প্রতিযোগিতায় ফিরতে হলে আন্তর্জাতিক কুস্তি সংস্থার অ্যান্টি-ডোপিং নিয়ম অনুযায়ী বাধ্যতামূলক ছয় মাসের নোটিস পিরিয়ড পূরণ করতে হয়। যা বিনেশ মানেননি।
এই কারণেই তাঁকে জাতীয় ওপেন র্যাঙ্কিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি বলে জানায় ফেডারেশন।
উল্লেখ্য, প্যারিস অলিম্পিক্সের সোনার লড়াইয়ের আগে নাটকীয়ভাবে অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার পর ২০২৪ সালে কুস্তি থেকে অবসর ঘোষণা করেছিলেন বিনেশ। পরে তিনি ফের প্রতিযোগিতায় ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং এই জাতীয় ওপেন র্যাঙ্কিং প্রতিযোগিতাকেই কামব্যাকের মঞ্চ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।
ज़िंदगी फँसी हैं किसी मँझधार में
— Vinesh Phogat (@Phogat_Vinesh)
ज़माना ढूँढता हैं खामी मेरे किरदार में..
ज़िंदगी तेरा सर सदा बुलंद रखा हैं
झुकाने की ताकत नहीं किसी तलवार में.!!!Tweet by @Phogat_Vinesh
কুস্তি ফেডারেশনের পাঠানো ১৫ পাতার নোটিসে অভিযোগ করা হয়েছে, প্যারিস অলিম্পিকের সময় বিনেশের আচরণ ভারতীয় কুস্তির ভাবমূর্তির ক্ষতি করেছে। পাশাপাশি, তিনি ডব্লিউএফআই সংবিধান, ইউডব্লিউডব্লিউ আন্তর্জাতিক নিয়ম এবং অ্যান্টি-ডোপিং বিধি লঙ্ঘন করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিনেশের অভিযোগ, তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিযোগিতার বাইরে রাখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রাক্তন ডব্লিউএফআই প্রধান ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংয়ের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনা ছ'জন মহিলা কুস্তিগীরের মধ্যে তিনিও একজন। তাঁর দাবি, ২০২৬ এশিয়ান গেমসের আগে তাঁর প্রত্যাবর্তন আটকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ডব্লিউএফআই সভাপতি সঞ্জয় সিং অবশ্য জানিয়েছেন, বিশ্ব অ্যান্টি-ডোপিং সংস্থা বা ওয়াডা-র নিয়ম মানা বাধ্যতামূলক। তাঁর কথায়, ''বিনেশ এখনও প্রমাণ করতে পারেননি যে তিনি অবসর ভেঙে ফেরার সমস্ত শর্ত পূরণ করেছেন। ছয় মাসের বাধ্যতামূলক নোটিস পিরিয়ড সম্পূর্ণ না হলে তিনি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন না।''
এর আগে ৩ মে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বিনেশ অভিযোগ করেন, যৌন হেনস্থার মামলার অভিযোগকারীদের পরিচয় গোপন রাখার আইন থাকা সত্ত্বেও তাঁকে প্রকাশ্যে আসতে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি জানান, ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংয়ের বিরুদ্ধে চলা মামলায় এখনও সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে এবং তিনি সেই মামলার অন্যতম অভিযোগকারী হিসেবেই রয়েছেন।















