ইউনাইটেড কলকাতা স্পোর্টস ক্লাব - ৮
এসএসবি উইম্যান ফুটবল ক্লাব - ০
আজকাল ওয়েবডেস্ক: কন্যাশ্রী কাপের চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডের খেতাব দৌড়ে থাকল ইউনাইটেড কলকাতা স্পোর্টস ক্লাব। মঙ্গলবার এসএসবি উইম্যান ফুটবল ক্লাবকে ৮-০ গোলে হারায় ইউকেএসসি। তবে খেতাব জিততে শেষ ম্যাচ বিশাল বড় ব্যবধানে জিততে হবে। তিন রাউন্ডের শেষে ৯ পয়েন্ট ইউনাইটেডের। ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে সমান পয়েন্ট হলেও, গোল পার্থক্যে অনেকটাই পিছিয়ে। ইস্টবেঙ্গলের গোল সংখ্যা ৩০। সেখানে ১২ গোল করেছে ইউকেএসসি। দুই দলের মধ্যে গোল পার্থক্য ১৮। ইউনাইটেডের শেষ ম্যাচ জ্যোতির্ময়ী ক্লাবের সঙ্গে। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল খেলবে এসএসবির বিরুদ্ধে। অর্থাৎ, ধরেই নেওয়া যায় শেষ দুই ম্যাচেই গোলের ফোয়ারা দেখা যাবে। এদিন শেষ ম্যাচের প্রতিপক্ষকে মাপতে ম্যাচে হাজির ছিলেন ইস্টবেঙ্গলের কোচ অ্যান্টনি। এদিকে প্রথম দুই ম্যাচ না হওয়ার খেসারত দিতে হতে পারে ইউকেএসসিকে।
পুলিশ এসির বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়ে যায়। ইউকেএসসি এক গোলে এগিয়ে থাকাকালীন মাঝপথে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। সূচি দেরিতে জানায় খেলতে চায়নি পুলিশ। নিয়ম অনুযায়ী তিন পয়েন্ট পায় ইউনাইটেড। দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠেই আসেনি সুরুচি সংঘ। ওয়াকওভার পায় ইউনাইটেড। নিয়ম অনুয়ায়ী, তিন পয়েন্ট এবং তিন গোল পায়। মঙ্গলবার কার্যত চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামে ইউনাইটেড। সামনে অ্যানি তায়াং এবং তনুশ্রী রায়কে রেখে শুরু করেন কোচ প্রশান্ত ভট্টাচার্য। মে মাসের প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দৃষ্টিনন্দন ফুটবল খেলা কঠিন। তাসত্ত্বেও চড়া রোদের মধ্যে ভাল ফুটবল খেলে ইউনাইটেড। প্রথমার্ধের শেষে ৩-০ গোলে এগিয়ে ছিল। গোল করেন কাই রুমি, নীতু লিন্ডা এবং তনুশ্রী রায়।
সুন্দর পাসিং ফুটবল। যা গোটা কন্যাশ্রী কাপ জুড়ে খেলেছে ইউকেএসসি। ম্যাচের ৯ মিনিটে এগিয়ে যায় ইউনাইটেড। দলকে এগিয়ে দেন কাই রুমি। ম্যাচের ১৪ মিনিটে ২-০। কাইয়ের পাস থেকে গোল করেন নীতু লিন্ডা। তৃতীয় গোলের জন্য ৭ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। ম্যাচের ২২ মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় তনুশ্রী রায়। বিরতির আগে অন্তত ৫-৬ গোলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু মিস করেন অ্যানি, অনিতারা। বিরতির ঠিক আগে অ্যানির শট একটুর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে রোদের তেজ কমায় পরিবেশ কিছুটা ফুটবল খেলার যোগ্য হয়। আক্রমণ বাড়ায় ইউনাইটেড। একপেশে ম্যাচ বলা চলে। শুধু মাঝেমধ্যে কয়েকবার বিক্ষিপ্ত আক্রমণ করার চেষ্টা করে সঙ্গীতা বাসফোররা। তবে ইউনাইটেডের আক্রমণের সামনে টিকতে পারেনি। চতুর্থ গোল মৌসুমী দাসের। তার কিছুক্ষণের মধ্যে পঞ্চম। ম্যাচের ৫৭ মিনিট ৫-০ করেন পরিবর্ত ফুটবলার ক্রেটিনা সাংমা। পরের গোল সারদা মান্ডির। সামনে বিপক্ষের গোলকিপারকে একা পেয়ে ইউকেএসসিকে ৬-০ গোলে এগিয়ে দেন। ম্যাচের ৮৩ মিনিটে সপ্তম গোল। করেন পরিবর্ত ফুটবলার শ্বাশতী সরকার। এদিন অন্তত দশ গোলের টার্গেট নিয়ে নেমেছিল ইউকেএসসি। হয় আট। ৯০+৬ মিনিটে পেনাল্টি থেকে শেষ গোল করেন পরিবর্ত ফুটবলার মিনা খাতুন। বক্সের মধ্যে তাঁকে ফাউল করে এসএসবির গোলকিপার মঞ্জু। স্পট কিক থেকে গোল করতে ভুল করেননি মিনা।
খেতাব জিততে শেষ ম্যাচ বিশাল বড় ব্যবধানে জিততে হবে। লক্ষ্য ২০-২৫ গোলও হতে পারে। আশা ছাড়ছেন না ইউনাইটেডের কোচ। প্রশান্ত ভট্টাচার্য বলেন, 'আমরা জানি শেষ ম্যাচে প্রচুর গোল করতে হবে। এদিন আরও গোল হতে পারত। তাহলে কিছটা সুবিধা হত। তবে আমরা তৈরি হয়েই নামব। পরিস্থিতি বুঝে পুরোটাই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলাব। কয়েকদিন আগে ঝাড়খণ্ড ৫১ গোলে জিতেছিল। তাই আশা ছাড়ছি না।' খেলা শেষে মাঠেই জন্মদিন পালন করা হয় ইউনাইটেডের ফুটবলার জ্যোতি শর্মার।সেলিব্রেশনে অংশ নেয় এসএসবির ফুটবলাররাও। বৃহস্পতিবার জ্যোতির্ময় এসির বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচ ইউকেএসসির।














