আজকাল ওয়েবডেস্ক: ডার্বির সন্ধ্যায় গ্যালারির ভিড়ে মুখ চেপে কাঁদছেন এক মহিলা ইস্টবেঙ্গল সমর্থক। সেই কান্নার ছবিই এখন ভাইরাল।
এডমুন্ডের গোলের পর মধ্যমগ্রামের লাল-হলুদ সমর্থক পিউ সিকদারের চোখের জল শুধুই একজনের আবেগ নয়, তা আসলে হাজারো লাল-হলুদ হৃদয়ের আবেগের বিস্ফোরণ।
এডমুন্ড গোল করার আগে একাধিক সুযোগ তৈরি করেছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু সেগুলো থেকে গোল আসেনি। এডমুন্ড চিরদিনের এক ফ্রেম তৈরি করে দেন মাঠে নেমে।
আজকাল ডট ইন-এর সঙ্গে দূরভাষে কথা বলতে গিয়ে এখনও আবেগে ভেসে যান পিউ। গলা প্রায় ভেঙে যাওয়ায় কথা বলতেও তাঁর কষ্ট হচ্ছিল। ডার্বির অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন, ''আমরা অনেকগুলো গোলের সুযোগ নষ্ট করছিলাম। গোল আসছিল না। এডমুন্ড নামার সময়ই মনে হচ্ছিল, আজ হয়তো ও-ই কিছু একটা করবে। এই ভাবনাটাই মাথায় ঘুরছিল, আর ঠিক তখনই এডমুন্ড গোল করে দিল। আমি আর নিজেকে সামলাতে পারিনি, কেঁদে ফেলি।'' সেই মুহূর্তটাই টিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। মুহূর্তে তা ভাইরাল হয়ে যায়।
ব্যাঙ্ক-কর্মী পিউয়ের গলায় এখনও সেই ডার্বিরই প্রতিধ্বনি, যেখানে আনন্দ আর অনিশ্চয়তা একসঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকে গ্যালারির রেলিং ধরে।
তাঁর মতো লক্ষ লক্ষ সমর্থকের চোখ এখন একটাই দিগন্তে স্থির। বৃহস্পতিবারের 'ফাইনাল'। ইস্টবেঙ্গলের সামনে ইন্টার কাশী। অপেক্ষায় ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা। অপেক্ষায় ব্যাঙ্ককর্মী পিউও।
?utm_source=ig_embed&utm_campaign=loading" target="_blank" rel="noopener">A post shared by Jo Pep Talks (@jo_pep_talks)
লক্ষ্মীবারের সন্ধ্যায় তিনি কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়ে ইস্টবেঙ্গলের জন্য গলা ফাটাবেন। তাঁর প্রার্থনা একটাই, ''এইবার যেন স্বপ্নটা সত্যি হয়।'' আর ইস্টবেঙ্গল চ্যাম্পিয়ন হলে বাড়ির লোক আর পাশের সব শিশুদের নিয়ে পার্টি দেবেন।
পিউ জানেন, ফুটবল শুধু খেলা নয়, এটা অপেক্ষাও। আর অপেক্ষার স্বাদ মিষ্টিই হয়।
তিনি বলেন, “আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দোরগোড়ায়। খেলোয়াড়দের অনুরোধ করছি, নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দাও।” অস্কার ব্রুজোঁর ছেলেরা শেষ লড়াইয়ের জন্য নিজেদের তৈরি করছেন।
২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বরের ডার্বিই ছিল পিউয়ের জীবনের প্রথম মাঠে বসে দেখা বড়ম্যাচ। প্রথমার্ধের পর সেই ডার্বি আর হয়নি। গ্যালারি থেকে উড়ে আসা ইটের আঘাতে রক্তাক্ত হন সৈয়দ রহিম নবি। রেফারির দিকে তেড়ে যাওয়ায় লাল কার্ড দেখেন ওডাফা ওকোলি। বিরতির সময়ে ইস্টবেঙ্গল হরমনজ্যোৎ খাবরার গোলে এগিয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধে আর বল গড়ায়নি। পিউ বলছেন, ''সেই ম্যাচের আগেরদিন খাবরা আমাকে সই করা জার্সি উপহার দিয়েছিল।''
ইস্টবেঙ্গলের অনূর্ধ্ব দলে খেলা মাসতুতো দাদার কাছ থেকে লাল-হলুদের গল্প শুনে পিউ হয়ে যান একনিষ্ঠ ইস্টবেঙ্গল ভক্ত। কোচ অস্কার ব্রুজোঁর কাজের প্রশংসা করে তিনি এখন বলছেন, ''আগেও বলেছি, আবারও বলছি, স্যার আমাদের ছেড়ে যাবেন না। আগে আমরা লিগ টেবিলের নিচের দিকে থাকতাম, আর এখন আমরা শীর্ষে। দলের এই পরিবর্তনে পুরোপুরি স্যারেরই অবদান।”
স্প্যানিশ মায়েস্ত্রো অস্কার আগেই জানিয়ে দিয়েছেন নিজের ভবিষ্যৎ। ৩১ মে-র পর তিনি আর ইস্টবেঙ্গলের দায়িত্ব সামলাবেন না। অস্কার-হীন ইস্টবেঙ্গল ভাবতেই পারছেন না পিউ। তাই অস্কারের কাছে আবেগঘন অনুরোধ তাঁর। অস্কারের দলের এই পরিক্রমা কেবল একটি মরশুমের গল্প নয়। এটা হয়ে উঠেছে আশা, পুনর্জন্ম আর লাল-হলুদের ফিরে আসার কাহিনি।
গ্যালারিতে পিউয়ের সেই কান্না তাই কেবল কান্না নয়। সেই কান্না তুলে ধরছে অপেক্ষা, বিশ্বাস আর অদম্য ভালবাসার আখ্যান।