আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্ব ফুটবলে আবার বিপর্যয়। ২০২৬ বিশ্বকাপে নেই ইতালি। ফিফা বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ারে বসনিয়ার কাছে অপ্রত্যাশিত হারে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল আজুরিদের। রেজাল্টে চমকে গিয়েছে ফুটবল বিশ্ব। সোশ্যাল মিডিয়ায় কান্নার, হতাশার ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। প্লেয়ার থেকে ফ্যান, কেউই রেজাল্ট মেনে নিতে পারছে না। বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করতে মঙ্গলবার বসনিয়ার বিরুদ্ধে জিততেই হত ইতালি। কিন্তু নর্থ আমেরিকায় পেনাল্টি শুটে ১-৪ গোলে হার আজুরিদের। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা একসময় রক্ষণ সংগঠিত ফুটবলের প্রতিচ্ছবি ছিল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সফল দল। ১৯৩৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ জেতে ইতালি। এরপর ১৯৩৮, ১৯৮২ এবং ২০০৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। কিন্তু গত ২০ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে শুধুই ব্যর্থতা। আবার আসল সময় বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হল রবার্তো বাজ্জিও, দেল পিয়েরোদের দলকে। 

ফুটবল ঐতিহ্যের জন্য প্রখ্যাত ইতালি। কিন্তু পরপর টানা তিনবার বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ। যা যেকোনও বড় আঘাতের সমতুল্য। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সাফল্য পাওয়া সত্ত্বেও বিশ্বকাপের মঞ্চে বারবার ব্যর্থতা। হারের পর ভেঙে পড়ে গ্যালারি। দেশে জ্বলছে আগুন। বিশ্বাস করতে পারেনি ফুটবল পণ্ডিতরাও।‌ একই ছবি মাঠে ফুটবলারদেরও। টানা তিনবারের ব্যর্থতা ইতালি ফুটবলের খোল-নলচে বদলে ফেলার দাবি তুলবে। একসময় ফুটবল জায়ান্ট বলে যে দল পরিচিত ছিল, তাঁদের এই হাল চাক্ষুষ করা দুর্ভাগ্যজনক। 

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর ইতালির কোচ জেননারো গাট্টুসো দাবি করেন, বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার মতো খেলেনি তাঁর দল। তিনি বলেন, 'আমার মনে হয় এমন ধাক্কা ছেলেদের প্রাপ্য নয়। ওরা নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে। মন-প্রাণ দিয়ে চেষ্টা করেছে। আমি ছেলেদের জন্য গর্বিত। তবে এটা হজম করা কঠিন।' এই বিপর্যয়ের পর কি কোচ বদল সময়ের অপেক্ষা? ইতালির ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা জানান, কোচ থাকবেন গাট্টুসোই। তাঁকে পদত্যাগ করতে বারণ করা হয়েছে। প্রথম বিশ্বকাপজয়ী দল হিসেবে পরপর তিনটে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ ইতালি। টানা তিনবার বিশ্বকাপের প্লে অফ থেকেই বিদায় নিল আজুরিরা। ২০১৮ সালে যাত্রা শেষ হয়েছিল সুইডেনে। চার বছর পর নর্থ ম্যাসিডোনিয়ায়। এবার নর্থ আমেরিকায়। অন্যদিকে, দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপে খেলার ছাড়পত্র অর্জন করল বসনিয়া। ২০১৪ সালের পর প্রথম। ঐতিহাসিক জয়ের পর মাঠে প্রবেশ করে বসনিয়ার সমর্থকরা। মাতে সেলিব্রেশনে।