আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ রঞ্জি ফাইনালে চালকের আসনে জম্মু–কাশ্মীর। দ্বিতীয় দিনের শেষে জম্মু–কাশ্মীর তুলেছে ৬ উইকেটে ৫২৭ রান। এটা ঘটনা, প্রথম দিন কোনও সমস্যা হয়নি। কিন্তু রঞ্জি ট্রফির ফাইনালের দ্বিতীয় দিন অশান্তি হল। মাঠেই কর্নাটকের ক্রিকেটারকে ঢুঁসো মারলেন জম্মু–কাশ্মীরের অধিনায়ক পরস ডোগরা। পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেতে হল আম্পায়ারদের। শুধু প্রতিপক্ষ ক্রিকেটারকে ঢুঁসো মারা নয়, মায়াঙ্ক আগরওয়াল, লোকেশ রাহুলদের সঙ্গে বচসাতেও জড়ালেন পরস।


হুবলির মাঠে ঘটনাটি ঘটে জম্মু–কাশ্মীরের ইনিংসের ১০১তম ওভারে। সতীর্থ কানহাইয়া ওয়াধাওয়ানের সঙ্গে ব্যাট করছিলেন পরস। বল করছিলেন প্রসিধ কৃষ্ণা। তাঁর একটি বল খেলার পরেই দেখা যায় ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে ফিল্ডিং করা কেভি অনীশের দিকে তেড়ে যাচ্ছেন পরস। তাঁদের মধ্যে কিছু কথা হয়। তার পরেই দেখা যায়, অনীশকে ঢুঁসো মারেন পরস। তবে দুই ক্রিকেটারই হেলমেট পরে থাকায় মাথায় চোট লাগেনি। পরে বোঝা যায়, পরসকে স্লেজ করায় মেজাজ হারান জম্মু–কাশ্মীরের অধিনায়ক।


আচমকা এই ঘটনায় অবাক হয়ে যান অনীশ। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে আসেন মায়াঙ্ক। তিনি পরসকে প্রশ্ন করেন, কেন ঢুঁসো মারলেন তিনি। তাতে পরস আরও কিছু বলেন। ঘটনাস্থলে এবার আসেন রাহুল। তাঁর সঙ্গেও বচসায় জড়ান পরস। বাধ্য হয়ে পরিস্থিতি সামলাতে আসেন আম্পায়াররা। তাঁরা কথা বলেন পরসের সঙ্গে। কিছুক্ষণ পর দেখা যায়, হাতের ইশারায় অনীশের কাছে ক্ষমা চাইছেন পরস। কিন্তু তা মানতে চাননি অনীশ। তিনি বার বার হাতের ইশারায় দেখান, ঢুঁসো মেরে ভাল করেননি পরস।


তার পরে দেখা যায়, কর্নাটকের অধিনায়ক দেবদত্ত পাডিক্কালের সঙ্গে দুই আম্পায়ার কথা বলছেন। তাঁরা তাঁকে পরিস্থিতি বোঝানোর চেষ্টা করেন। এই ঘটনার ফলে কিছুক্ষণ পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকে। পরসের কাজে খুশি হননি জম্মু–কাশ্মীরের প্রধান কোচ অনিল শর্মাও। ডাগ আউটে তাঁকে দেখে বোঝা যায়, বিরক্ত হয়েছেন। হাতের ইশারায় পরসদের খেলার দিকে মন দেওয়ার নির্দেশ দেন অনিল।


পরের ওভারে আবার একটি বচসা ঘটতে পারত। রান নেওয়ার সময় কর্নাটকের পেসার বিজয়কুমার বৈশাখের সঙ্গে ধাক্কা লাগে ওয়াধাওয়ানের। দুই ক্রিকেটার আবার সামনাসামনি চলে আসেন। তবে কিছু বলার আগেই সেখানে চলে আসেন আম্পায়ারেরা। দুই ক্রিকেটারকে সরিয়ে নিয়ে যান তাঁরা।


মাঠে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও জম্মু–কাশ্মীরের ব্যাটিংয়ে তার প্রভাব পড়েনি। দ্বিতীয় দিনের শেষে তাদের রান ৬ উইকেটে ৫২৭। 


প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে এভাবেই ইতালির মার্কো মাতেরাজ্জিকে ঢুঁসো মেরে লাল কার্ড দেখেছিলেন ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান। মাথা গরম করার খেসারত দিতে হয়েছিল তাঁকে। টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইতালি। ক্রিকেটে অবশ্য লাল কার্ড নেই। তাই হয়তো এখন বেঁচে গেলেন পরস। কিন্তু খেলা শেষে নিজেদের রিপোর্টে এই ঘটনার কথা উল্লেখ করবেন আম্পায়াররা। ফলে এই ঘটনার জেরে শাস্তি পেতে পারেন পরস।