আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ একের পর এক নাটক। বিতর্ক থাকল সঙ্গী। ঘটনাটি আফ্রিকান কাপ অফ নেশন্সে। ফাইনালের দুই দল মরক্কো ও সেনেগালের কোচ থেকে ফুটবলার–সমর্থকরা ম্যাচ শেষে ঝামেলায় জড়ালেন। বাদ গেলেন না দুই দেশের সাংবাদিকরাও। 


আফ্রিকান কাপ অফ নেশন্স (অ্যাফকন) ফাইনালে ম্যাচ চলার সময় যেমন নাটক হয়েছে, তেমনই ম্যাচের পরেও একাধিক নাটক দেখা গিয়েছে। সাংবাদিক বৈঠকে আসা সেনেগালের কোচকে বিদ্রুপ করেন মরক্কোর সাংবাদিকরা। রেগেমেগে সাংবাদিক বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি। পরে ক্ষমা চেয়েছেন। সেনেগালের কিছু ফুটবলারের নিন্দা করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।


প্রতিযোগিতার আয়োজক ছিল মরক্কো। ফাইনালে ওঠায় সমর্থক থেকে সাংবাদিক, প্রত্যেকের উন্মাদনা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। কিন্তু নাটকীয় ম্যাচে মরক্কো হারার পর অনেকেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।
ম্যাচের পর প্রথামাফিক সাংবাদিক বৈঠক করতে আসেন সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও। সঙ্গে সঙ্গে থিয়াওয়ের উদ্দেশে বিদ্রুপাত্মক শিস দিতে শুরু করেন মরক্কোর সাংবাদিকরা। সঙ্গে সঙ্গে সেনেগালের সাংবাদিকরা কোচের উদ্দেশে হাততালি দিতে শুরু করেন। তাঁর নামে জয়ধ্বনি দিতে থাকেন। এতটাই গোলমাল এবং আওয়াজ হতে থাকে যে, সাংবাদিক বৈঠক শুরুর আগেই বন্ধ হয়ে যায়। রেগে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যান থিয়াও। দু’দেশের সাংবাদিকরা একে অপরের মধ্যে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন।


ছাড় পাননি মরক্কোর কোচ ওয়ালিদ রেগ্রাগিও। তাঁকে দেশের সাংবাদিকেরাই প্রশ্ন করতে থাকেন, কবে তিনি কোচের দায়িত্ব ছাড়ছেন? বিরক্ত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন রেগ্রাগি।
থিয়াও অবশ্য পরে কথা বলেছেন। মরক্কোকে পেনাল্টি দেওয়ার পর দলকে তুলে নেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‌ওই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত ছিলাম। ম্যাচে যা হয়েছে তার পর মাঠে আর ফিরতে চাইনি। পরে ভেবে দেখলাম, ফুটবলারদের মাঠ ছাড়তে বলে ঠিক কাজ করিনি। ফুটবলের কাছে ক্ষমা চাইছি। আমিই ফুটবলারদের ফিরিয়ে এনেছি।’‌ এদিকে, মরক্কোর কোচ রেগ্রাগি বলেছেন, ‘‌আফ্রিকার একটা লজ্জাজনক চিত্র তুলে ধরা হল। কোচের উচিত হয়নি ফুটবলারদের মাঠ ছাড়তে বলা। হারলেও সেটা সম্মানের সঙ্গে মেনে নিতে হয়। পাপে আজ যা করেছে তাতে আফ্রিকার সম্মান মোটেই বাড়েনি।’‌


ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোও খুশি নন এই ঘটনায়। তিনি বলেছেন, ‘‌সেনেগালের কিছু সমর্থক এবং কিছু ফুটবলার ও সাপোর্ট স্টাফের আচরণের নিন্দা করছি আমরা। ওভাবে মাঠ ছাড়া কোনওভাবেই কাম্য নয়। তাছাড়া খেলাধুলোয় হিংসা কখনওই মেনে নেওয়া যায় না। একেবারেই ঠিক কাজ নয়।’‌


ফাইনালে গোল বাতিল, পেনাল্টি মিস থেকে শেষ মুহূর্তের গোলে খেলার ফয়সালা। তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে সেনেগালের ফুটবলারদের ওয়াক আউট। শেষ পর্যন্ত মরক্কোকে হারিয়ে সেই সেনেগালই দ্বিতীয় বারের জন্য জিতেছে এই প্রতিযোগিতা।


খেলায় নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনও দল গোল করতে পারেনি। ৯২ মিনিটের মাথায় কর্নার থেকে গোল করে সেনেগাল। তবে রেফারি সেই গোল বাতিল করেন। কারণ, হেডে গোল করার আগে বক্সে মরক্কোর ফুটবলারকে ফাউল করেছিলেন সেনেগালের ফুটবলার। পরের মিনিটেই সেনেগালের বক্সে ফাউল করা হয় মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াজকে। রেফারি পেনাল্টি দেন। সেনেগালের ফুটবলাররা প্রতিবাদ করেন। তখন ভার প্রযুক্তির সাহায্য নেন রেফারি। তার পরেও সিদ্ধান্ত বদলাননি তিনি। রেফারির সিদ্ধান্ত মানতে না পেরে সেনেগালের কোচ পাপে বৌনা থিয়াও সব ফুটবলারকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ মেনে সেনেগালের ফুটবলাররা মাঠ ছাড়েন।


সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে সেনেগালের কোচকে অনেক বার মাঠে নামার আবেদন করেন চতুর্থ রেফারি। তাতেও কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত সেনেগালের অধিনায়ক সাদিও মানের কথা শুনে মাঠে নামেন ফুটবলাররা। প্রায় ২০ মিনিট বন্ধ থাকার পর শুরু হয় খেলা।


খেলা শুরুর পর পেনাল্টি নিতে যান দিয়াজ। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলা দিয়াজ পানেনকা কিক মারার চেষ্টা করেন। কিন্তু তৎপর ছিলেন সেনেগালের গোলরক্ষক এডুয়ার্ড মেন্ডি। বল ধরে নেন তিনি। এরপর শেষ মুহূর্তে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের জোরাল শটে গোল করেন পাপা গুয়েই। ওই গোলেই চ্যাম্পিয়ন হয় সেনেগাল। 

 


‌‌