আজকাল ওয়েবডেস্ক: লখনউ ও মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে খাতা না খুলেই ফিরতে হয়েছিল। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে পুরনো ছন্দে ফিরলেন বিরাট কোহলি। কলকাতার বিরুদ্ধে প্রথম রান করতেই গ্যালারি থেকে উঠল করতালির ঢেউ। এরপর ব্যাট হাতে নামলেন একেবারে চেনা 'চেজমাস্টার' অবতারে। দিনের শেষে তাঁর নামের পাশে ৯টি আইপিএল সেঞ্চুরি। ১০৫ রানে অপরাজিত থেকে যান বিরাট কোহলি। তাঁর দল আরসিবি কলকাতাকে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকায় এক নম্বরে পৌঁছে গেল। অন্যদিকে কলকাতা নাইট রাইডার্স আরও বিপন্ন হয়ে পড়ল। প্লে অফের সম্ভাবনা ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হচ্ছে। 

১৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কোহলি একাই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিলেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে ম্যাচ জিতিয়ে। ইনিংসের শুরুতে বেথেল ও কোহলি ৩৭ রান জোড়েন। ১৫ রান করে বেথেলকে ফেরান কার্তিক ত্যাগী। এরপর কোহলির সঙ্গে জুটি গড়েন দেবদত্ত পাড়িক্কল।  দু’জনে মিলে যোগ করেন ৯২ রান, যা ইনিংসকে স্থিতি দেয়।

যখন মনে হচ্ছিল এই জুটি বড় রানে যাবে, ঠিক তখনই ৩৯ রান করে আউট হন পাড়িক্কল। ক্যাচ নেন নাইট অধিনায়ক রাহানে।  কোহলি তখন ৬৪ রানে অপরাজিত, আর দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে।

এরপর আরও চাপ বাড়ে। অধিনায়ক রজত পাতিদার নারিনকে ছক্কা মারার পরের বলেই আউট হন ক্যাচ দিয়ে। সেই সময় কোহলি ৭৯ রানে পৌঁছে গেছেন, ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ একাই ধরে রেখেছেন।

শেষের দিকে আবারও ঝলক দেখান কোহলি। অনুকূল রায়কে সোজা ছক্কায় মাঠের বাইরে পাঠিয়ে পৌঁছে যান ৯৮-এ। অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়লেও তিনি ছিলেন অটল, অপ্রতিরোধ্য। 

কোহলির রান যখন ৯৯, তখন আউট হন টিম ডেভিড। যাঁর ক্যাচ দারুণভাবে ধরেন মণীষ পাণ্ডে। ততক্ষণে অবশ্য ম্যাচ প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে আরসিবি।

কোহলির দুর্দান্ত সেঞ্চুরির সৌজন্যে কলকাতাকে হারিয়ে আরসিবি পৌঁছে গেল পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে।  কেন তিনি আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা চেজমাস্টার, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন কোহলি।  

এদিকে আগে অঙ্গকৃশ রঘুবংশীর ব্যাটে ভর করেই শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ের ভিত গড়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে নাইটদের সংগ্রহ ১৯২ রান। ৪৬ বলে ৭১ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন রঘুবংশী। তাঁর ব্যাটে ছিল ৩টি ছক্কা ও ৭টি চার। অন্য প্রান্তে ২৯ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন রিঙ্কু সিং, যিনি শেষদিকে দ্রুত রান তুলে স্কোরবোর্ডে গতি এনেছেন। 
তবে শেষ পাঁচ ওভারে প্রত্যাশিত রানের গতি তুলতে পারেননি দুই সেট ব্যাটার। সেই সময়ে গতি তুলতে পারলে কেকেআর ২০০ রানের গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলত। কিন্তু অঙ্গকৃষের লড়াই কাজে এল না। কোহলি বিরাট হয়ে ধরা দিলেন আরও একবার। ৫ বল বাকি থাকতে ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল আরসিবি।